29.4 C
Dinajpur
Friday, August 23, 2019
Home Blog Page 3

মনগড়া পদ্ধতিতে ঈমান ও আমল গ্রহণযোগ্য নয় -শেখ খালিদ সাইফুল্লাহ আজমী ।

0

নেক আমলের পথে উম্মত আজ সাধারণভাবে যে ধোঁকা খাচ্ছে, তার অন্যতম হল মনগড়া পদ্ধতি অবলম্বন করে আমল করা। যেভাবে ইচ্ছা নামাজ পড়া, যেভাবে ইচ্ছা যিকির করা, যেভাবে ইচ্ছা কুরবানী করা ইত্যাদি। আর মন গড়া পদ্ধতি অবলম্বনের জন্য সবই আমাদের নেক আমলকে অসম্পূর্ণ ও বরবাদ করে দিচ্ছে। যেখানে দুনিয়ার কাজ-কারবারই যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে করলে লাভের বদলে ক্ষতি হয়, সেখানে ইবাদত বন্দেগী মনগড়া ভাবে করলে যে কত ক্ষতি – সেটা তো সহজেই অনুমেয়! আর যে কিনা সাধারণত ইবাদত বন্দেগি নিয়ম মাফিক করার বিষয়ে উদাসীন হয়, সে দুনিয়ার কাজ করার সময়ও হালাল-হারাম, জায়েয-নাজায়েয, সুন্নত-বিদআত ইত্যাদি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যায়।

এক তো হল জানার চেষ্টা না করা, আরেক হল সরাসরি অবহেলা। আরেকটা হল দ্বীন যে সকল উৎস থেকে শেখা হয়, সেটাকেই বাঁকা চোখে দেখা ও অবজ্ঞা করা। হায়! আজ ব্যাপকভাবে আমাদের ইবাদত থেকেই ইসলামের নির্দেশনা বের হয়ে যাচ্ছে; সামাজিকতা, কায়-কারবার – এগুলো যে অমুসলমানদের রীতিনীতিতে হচ্ছে – সেটাতো একদমই স্পষ্ট!

এই যে কিছু দিন আগে সমাপ্ত হজ্জ্ব ও কুরবানীর কথাই ধরুন। কত ঈমানদার ভাইয়েরা হজ্জ্বে গিয়েছেন, কুরবানী করেছেন – মাশাআল্লাহ্! কিন্তু আফসোস, শরীয়তের বিধি-বিধানকে জেনে অনেকে হজ্জ্ব-কুরবানী করেছেন না। হজ্জ্ব-কুরবানী এতো বড় ইবাদত, কিন্তু কিভাবে পালিত হয়েছে, যেভাবে আসলেই আল্লাহর দরবারে তা কবুল ও মকবুলের আশা করা যায়, নাকি সে বিষয়ে কোন চিন্তা ছিল না?!

অনেক ভাইদের কর্ম পদ্ধতি একদম খোলা চোখে এই প্রমাণই বহন করে যে, তেমন ‘কিছুই না জেনে’ খুব দায়সারা ভাবে এত বড় বড় আমল আঞ্জাম দিচ্ছে, অথবা যেমন দেখছে, মনে হচ্ছে ব্যস – সেটাই করছে। ঈমান এনেছি, নেক আমল করছি – আত্মতৃপ্তি এখানেই। শয়তান ধোঁকা দিচ্ছে, আল্লাহ মেহেরবান। আরে, যে জানাটাই ফরয্, সেখানে না জেনে করলেও ‘আল্লাহ মেহেরবান’?!

ঈমানের দাবী কি, ইসলাম-এর উপর চলা অর্থাৎ দ্বীনের উপর চলার অর্থ কি – তা একদম এড়িয়ে এড়িয়ে চলছি আমরা। বই-পুস্তক পড়ে “যা কিছু” বুঝে আসছে – সেটা করছি। যা মনে চায় তা করছি। যেভাবে নিজের মনটা ভরে সেটাই করছি। আমার ছেলের/মেয়ের বিয়ে আমি দিব – যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে দিব, কার কি? আমার নামায আমি পড়ব, যেভাবে ইচ্ছা পড়ব, আমার হজ্জ্ব আমি করব – কিভাবে করতে হবে, আমি ভাল জানি, আমার টাকা দিয়ে আমি কুরবানী দিব – যেমনে মনে তেমনে দিব – এই যে এক প্রবণতা শুরু হয়েছে আমাদের মাঝে, তা নিতান্তই দুঃখজনক এবং সর্বনাশা! এভাবেই অনেক ভাইয়েরা সুদ খাওয়া হালাল মনে করে নিয়েছে, এভাবেই তারা নানান রকম হারাম-কে জায়েয ভেবে একদম আশ্বস্ত! সবাই করছে, এভাবেই চলতে হয়, তা না হলে কেমনে চলব? আলেম-উলামারা কি দুনিয়া জানেন আর বুঝেন? অনেকের মনই এই সব চিন্তায় হাবুডবু খেয়ে ধোঁকা খাচ্ছে। আল্লাহ্ তা’আলা সবাইকে হেফাজত করুন!

দুনিয়াবি বিষয়গুলির কথা চিন্তা করুন! অল্প লেখাপড়া করলে বা ফাঁকি দিলে তো ছাত্র বেশী থেকে বেশী ফেল করতে পারে, ব্যবসায়ীর ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতি হলে ব্যবসাটা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, চাকুরীজীবীর চাকুরীতে বড় সমস্যা হলে বড়জোর চাকুরীটা চলে যেতে পারে। কিন্তু দ্বীনি বিষয়ে না জেনে, না শিখে, মন মতন চলা, মন মতন আমল করা, যা ইচ্ছা করতে থাকা – ব্যাপক ক্ষতি বয়ে আনে। ফল এই হয় যে, দুনিয়াতে জীবন হয়ে যায় অশান্তির, আর গাফলতি ও অবহেলার আমরণ লেগে থাকলে তো আখেরাতে আসছে কঠোর শাস্তি! বহু বছরের নামাজী, বহু বছরের হাজ্বী, যত্নের সাথে লম্বা লম্বা কুর্তা-জামা পরিধানকারী, বাহ্যিক বেশভূষায় দাড়ি ও টুপিওয়ালা পর্যন্ত ‘ধরা’ খেয়ে যাবে। কারণ শুধু এই যে, তুমি ঈমানের দাবী করেছো, নেক আমল করেছো, কিন্তু তোমার শ্রম পন্ড। তোমার কাজের সাথে তোমার নবীর কাজের মিল হয়নি। তুমি ঠিক-ঠাক মতন জেনে, দ্বীন-কে শিখে-বুঝে জীবনে দ্বীন বাস্তবায়ন করনি!

একটি কথা এতো শুনি আমরা, কিন্তু খুব কম সংখ্যক মানুষ এর দ্বারা ইতিবাচক ভাবে প্রভাবিত! সেটা হলো আমাদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুকরণ-অনুসরণ করতে হবে। ব্যাপকভাবে উম্মত আজ এই বিষয়ে চরম অবহেলা প্রদর্শন করছে। প্রতিটি কাজে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যে নীতি নির্দেশনা রয়েছে তা একজন মুসলমানের আমল করার জন্য মৌলিক মানদন্ড বটে। কিন্তু সুস্পষ্ট নির্দেশনা গুলি অহরহ আমাদের দ্বারা লঙ্ঘিত হচ্ছে! অথচ অনেক খুঁটিনাটি দ্বীনি বিষয়ে আমরা (সাধারণ মানুষ) আলোচনা, পর্যালোচনা ও তর্কে লিপ্ত, যেটা মারত্মক অনধিকার চর্চাই বটে!

আমরা প্রত্যেকে নিজেদের উপর রহম করি! পবিত্র কুরআন, আহাদীস-এর ধারক ও বাহকগণ আজও রয়েছেন (সব সময় থাকবেন); মনগড়া পদ্ধতিতে নয়, নিজেকে আন্তরিকভাবে তাদের হাতে আমরা সোপর্দ করি। সাথে সাথে আন্তরিকভাবে আল্লাহ তা’আলার কাছ দু’আ-র মধ্যে লেগে যাই। আন্তরিক দু’আ ও প্রচেষ্টা ছাড়া সঠিক পথ পাওয়া অসম্ভব – আরো বিশেষভাবে এই কঠিন ফেতনার যুগে। আন্তরিকতা থাকলে ও সাধ্যমত প্রচেষ্টা থাকলে সিরাতে মুস্তকীম সহজ। আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের সহায় হোন। আমীন।

আমিরুল মুজাহিদীন আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহঃ) এর চিঠি – ফুজায়েল বীন আয়াজের কাছে জিহাদের ফযিলত সম্পর্কে

0

***

হাফেয ইবনে আসাকির, “আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহঃ) এর জীবনী”তে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ১৭৭ হিজরীতে ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী শহর তারসুসে অবস্থান কালে মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম বিন আবু সুকায়নাকে সাত লাইন কবিতা আবৃত্তি করে শুনালেন। তিনি লাইনগুলো লিখে ইবরাহীমের মাধ্যমে কাবা শরীফে এবাদতরত ফুযাইল বিন ইয়াযের জন্য পাঠিয়ে দিলেন। কবিতার লাইন সাতটি এই–

১) ওহে হারামাইনে (মক্কা-মদীনায়) এবাদতকারী! তুমি যদি আমাদেরকে দেখতে, তাহলে অবশ্যই জানতে যে, তুমি এবাদত নিয়ে খেলতামাশায় লিপ্ত।

২) কোন ব্যক্তি যখন (আল্লাহর ভয়ে কেঁদে) চোখের পানিতে স্বীয় গাল ভিজিয়ে ফেলে আমরা তখন রক্তের মাধ্যমে স্বীয় বক্ষসমূহকে রঙ্গিন করি।

৩) কোন ব্যক্তি যখন বাতিলের পথে দৌড়িয়ে স্বীয় ঘোড়াকে ক্লান্ত করে, তখন আমাদের গোড়াসমূহ কেবল যুদ্ধের সময়ই দুর্বল হয়।

৪) তোমাদের জন্য মিস্ক-আম্বারের সৌরভ। আর আল্লাহর রাস্তায় আমাদের সুবাস আসে রক্তমাখা ঘোড়ার খুর ও পবিত্র ধূলিবালি হতে।

৫) আমাদের কাছে আমাদের নবীর বাণীসমূহ থেকে এমন একটি কথা পৌঁছেছে, যা সঠিক সত্য, তাতে মিথ্যার লেশমাত্র নেই।

৬) আল্লাহর রাস্তায় ঘোড়ার খুরের ধূলি এবং জাহান্নামের আগুনের ধোঁয়া কখনই মুজাহিদের নাকে একত্রিত হবেনা।

৭) আল্লাহর কিতাব আমাদেরকে বলছেঃ আল্লাহর রাস্তায় কোন শহীদই মৃত নয়। তাঁর কিতাবের কোন কথাই মিথ্যা নয়।

মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম বলেন, আমি চিঠিসহ মাসজিদুল হারামে (কাবা শরীফে) পৌঁছে ফুযাইল বিন ইয়াযের সাথে সাক্ষাত করলাম। পত্রটি পড়েই ফুযাইল বিন ইয়ায কাঁদতে লাগলেন এবং তাঁর চোখ থেকে অশ্র প্রবাহিত হল।
অতঃপর তিনি বললেন, আবু আব্দুর রাহমান (আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক) সত্য বলেছেন এবং আমাকে নসীহত করেছেন।
অতঃপর তিনি ইবরাহীমকে লক্ষ্য করে বললেন, “তুমি কি হাদীছ লিখো?”
মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম বলেন, “আমি বললাম হ্যাঁ।”
এরপর ফুযাইল বললেন, “এই হাদীছটি লিখে নাও।”
এই বলে ফুযাইল আমাকে লিখালেনঃ আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন–

أن رجلاً قال: يا رسول الله، علمني عملاً أنال به ثواب المجاهدين في سبيل الله فقال: هل تستطيع أن تصلي فلا تفتر وتصوم فلا تفطر؟ فقال: يا رسول الله أنا أضعف من أن أستطيع ذلك ثم قال النبي صلى الله عليه وسلم: فوالذي نفسي بيده لو طوقت ذلك ما بلغت فضل المجاهدين في سبيل الله أو ما علمت أن فرس المجاهد ليستن في طوله فيكتب له بذلك حسنات

“এক লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, আমাকে এমন কতিপয় আমল শিখিয়ে দিন, যার দ্বারা আমি আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদদের ছাওয়াব অর্জন করতে পারবো। তিনি তখন বললেন, তুমি কি এমন করতে পারবে যে, সর্বদা নামায পড়তেই থাকবে এবং কোন প্রকার ক্লান্তিবোধ করবেনা? প্রতিদিন রোযা রাখতেই থাকবে এবং কখনই রোযা ছাড়বেনা? লোকটি তখন বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি দুর্বল। আমি এর ক্ষমতা রাখিনা। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ঐ সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, তুমি যদি এমন করতেও পার তথাপিও আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদদের ফজীলত পর্যন্ত পৌঁছতে পারবেনা। তোমার কি জানা আছে যে, মুজাহিদের ঘোড়া রশিতে বাঁধা অবস্থায় যতবার নড়াচড়া করে, ততবারের বিনিময়ে মুজাহিদের জন্য ছাওয়াব লিখা হয়।”

— “তারিখে দিমাস্ক, (৪/৩৮৫), কুররাতুল উয়ুনঃ ৩১৩”

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (র) জীবনী।

0

নাম, উপনাম ও বংশ পরিচয় : নাম : আহমাদ, পিতা মুহাম্মদ, দাদা হাম্বল, উপনাম আবূ আব্দুল্লাহ।

বংশনাম : আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল বিন হিলাল বিন আসাদ বিন ইদ্রীস—- আশ্শায়বানী, আল-মারওয়াযী, আল-বাগদাদী। ইমামের ১৩তম পূর্ব পুরুষ শায়বান এর দিকে সম্পৃক্ত করায় আশ শায়বানী, তাঁর জন্মভূমি মুরউ এর দিকে সম্পৃক্ত করায় আল-মারওয়াযী, অতঃপর ইমামের অবস্থান বাগ্দাদ এর দিকে সম্পৃক্ত কারয় ‘‘আল বাগ্দাদী।’

জন্ম ও প্রতিপালন : ইমাম আহমাদ (রহ.) ১৬৪ হিঃ রবিউল আউয়াল মাসে মুরউতে জন্ম গ্রহণ করেন। কেউ কেউ বলেন তিনি মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় মুরউ হতে বাগদাদে আসেন অতঃপর বাগদাদে জন্ম হয়। ছোট কালেই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন ফলে তিনি ইয়াতীম অবস্থায় মার কাছে পালিত হন।[2]

শিক্ষা জীবন : ইমাম আহমাদ (রহ.) ছোট বয়সেই শিক্ষায় মনোনিবেশ হন। তিনি প্রখর মেধাশক্তিসম্পন্ন ছিলেন। অতি সহজেই অনেক কিছু মুখস্ত করে ফেলতেন। ইব্রাহীম আল হারবী (রহ.) বলেন : ‘‘মনে হয় যেন আল্লাহ তা’আলা ইমাম আহমাদকে আদি-অন্তের সকল প্রকার জ্ঞান দান করেছেন।’’[3]

শিক্ষা সফর : জ্ঞান পিপাসু ইমামুস সুন্নাহ্ ইমাম আহমাদ (রহ.) বাগদাদের উল্লেখযোগ্য সকল আলিম হতে শিক্ষা গ্রহণের পর বিভিন্ন প্রান্তে জ্ঞান আহরণে ছুটে চলেন। তিনি সফর করেন কুফা, বাসরা, মক্কা, মদীনা, ত্বারতুস, দামেস্ক, ইয়ামান, মিসর ইত্যাদি অঞ্চলে। তিনি পাঁচবার হাজ্জব্রত পালন করেন তন্মধ্যে তিনবার পায়ে হেঁটে হাজ্জ পালন করেন।[4]

হাদীসের জগতে ইমাম আহমাদ (রহ.) : হাদীসের জগতে ইমাম আহমাদ (রহ.) এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, তাঁর হাদীসের পারদর্শিতা সম্পর্কে এক কথায় বলা যায় তিনি হাদীসের এক বিশাল সাগর। ইমাম আব্দুল ওয়াহ্হাব আল ওয়াররাক বলেন, ‘‘আমি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মত আর কাউকে দেখিনি, তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো আপনি অন্যের চেয়ে ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর মাঝে জ্ঞান-গরিমা বা মর্যাদা বেশী কি পেয়েছেন? তিনি বললেন : ইমাম আহমাদ এমন একজন ব্যক্তি যাকে ৬০,০০০ (ষাট হাজার) প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি সকল প্রশ্নের জবাবে হাদ্দাছানা ওয়া আখাবারানা অর্থাৎ হাদীস হতে জবাব দিয়েছেন অন্য কিছু বলেন নি।’’[5] অতএব এক বাক্যে বলা যায় যে, ইমাম আহমাদ (রহ.) হাদীসের সাগর ছিলেন। এ ছাড়াও এর জলন্ত প্রমাণ হলো ইমামের সংকলিত সুপ্রসিদ্ধ হাদীস গ্রন্থ ‘‘আল মুসনাদ’’ যার হাদীস সংখ্যা চল্লিশ হাজার।[6]

অতএব হাদীসের জগতে ইমাম আহমাদ (রহ.) এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। হাদীস শাস্ত্রে মুসতালাহ, ঈলাল, আসমাউর রিজাল, জারহ-তাদীল ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য কৃতিত্ব বিদ্যমান রয়েছে। হাদীস শিক্ষাদানেও তাঁর কৃতিত্ব অতুলনীয়, তাঁর একেক মজলিসে পাঁচ হাজারেরও অধিক ছাত্র অংশ গ্রহণ করত।[7]

আহলুস সুন্নাহর ইমাম : ইমাম আহমাদ (রহ.) সকল প্রকার ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্ত্তত কিন্তু প্রকাশ্যভাবে সুন্নাহকে অাঁকড়ে ধরা হতে সামান্যতম ছাড় দিতে প্রস্ত্তত নন, প্রয়োজনে জীবন জেতে পারে তবুও সুন্নাহর অনুসরণ বর্জন হতে পারে না, ইমাম ইসহাক বিন রাহুয়াহ (রহ.) বলেন : ‘‘যদি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল না হতেন এবং তাঁর ইসলামের জন্য ত্যাগ স্বীকার না হত তাহলে ইসলাম বিনাশ হয়ে যেত, অর্থাৎ যখন সকলেই ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় কুরআনকে মাখলুক হিসাবে স্বীকার করে নিল, তখন পৃথিবীর বুকে একজনই মাত্র ইসলামের সঠিক বিশ্বাস ধারণ করেছিলেন, তিনিই হলেন ইমাম আহমাদ। আল্লাহ তা’আলা তাঁর মাধ্যমেই ইসলামের সঠিক আকীদাহ্ বিশ্বাসকে টিকিয়ে রেখেছিলেন।

রাসূল (ছাঃ) হতে চলে আসা কুরআনের সঠিক বিশ্বাস : ‘‘কুরআন আল্লাহ তা’আলার বাণী, কোন সৃষ্ট বস্ত্ত নয়।’’ কিন্তু জাহমিয়া ও মুতাযিলাদের আবির্ভাবে এ বিশ্বাসে বিকৃতি ঘটানো হয়, শুরু হল ‘‘কুরআন মাখলুক বা সৃষ্ট বস্ত্ত’’ এ ভ্রান্ত বিশ্বাসের প্রচারণা, এমনকি রাষ্ট্রীয়ভাবে আববাসীয় খলীফা হারুনুর রশীদ এবং পরবর্তী খলীফা মামুনুর রশীদ প্রভাবিত হলেন এ ভ্রান্ত বিশ্বাসে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা হল সকলকে বিশ্বাস পোষণ করতে হবে যে, ‘‘কুরআন মাখলুক বা সৃষ্ট বস্ত্ত’’, এ বিশ্বাসের কেউ দ্বিমত পোষণ করতে পারবে না। বাধ্য হয়ে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় প্রায় সকলেই ঐক্যমত পোষণ করলেন শুধুমাত্র দু’জন দ্বিমত পোষণ করেন, ইমাম আহমাদ (রহ.) ও মুহাম্মাদ বিন নূহ (রহ.)। নির্দেশ দেয়া হল তাদেরকে গ্রেফতার করার জন্য। গ্রেফতার করে আনার পথে মুহাম্মদ বিন নূহ (রহ.) ইন্তেকাল করেন, আর ইমাম আহমাদ (রহ.) দু’আ করেছিলেন যেন খলীফা মামুনের সাথে সাক্ষাৎ না হয়। ইমামকে কারাবাস দেয়া হল, প্রায় আটাস (২৮) মাস কারাগারে আবদ্ধ হয়ে থাকলেন এবং খলীফা মু‘তাসিম এর নির্দেশে ইমামকে তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস পোষণ না করায় বেত্রাঘাত করা হল। হাত বেঁধে নিষ্ঠুরভাবে কোড়াঘাত করা হয়। কোড়াঘাতে রক্ত ঝড়তে থাকে, গায়ের কাপড় পর্যন্ত রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায়। জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরে যান, আবার জ্ঞান ফিরলে জিজ্ঞাসা করা হয় তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাসে একমত কিনা? একমত না হলে আবার কোড়াঘাত শুরু হয়। এভাবে নির্মম নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হন। এর কারণ শুধু একটিই তিনি কুরআন ও সুন্নাহর অনুসারী এবং বিদ’আতী বিশ্বাস বর্জনকারী। পরিশেষে খলীফা আল মুতাওয়াক্কিল (রহ.) সঠিক বিষয় উপলব্ধি করায় গোটা মুসলিম জাহানে হকের উপর প্রতিষ্ঠিত অনড়, অটল একক ব্যক্তি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহ.)-কে কারামুক্ত করেন এবং তাঁকে যথার্থ সম্মান প্রদর্শন করেন।[8]

ইমামের আকীদাহ্-বিশ্বাস : পৃথিবীর বুকে যখন ইচ্ছা-অনিচ্ছায় সকলেই মুতাযিলাদের বাতিল আকীদাহ-বিশ্বাস গ্রহণ করে তখন একক ব্যক্তি যিনি কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে সঠিক আকীদাহ্ বিশ্বাসের উপর অটল ছিলেন। এমনকি নির্মম, নিষ্ঠুর নির্যাতনেও তিনি সঠিক আকাদীহ্ হতে সামান্যতমও বিচ্যুত হননি। সুতরাং একবাক্যে বলা যায় যে, তিনি সঠিক আকীদায় শুধু বিশ্বাসী নয় বরং সঠিক আকীদায় বিশ্বাসীদের অন্যতম ইমাম ছিলেন।

ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর শিক্ষকবৃন্দ : ইমাম আহমাদ (রহ.) বাগদাদসহ গোটা মুসলিম জাহানের প্রায় সকল শিক্ষা কেন্দ্রে জ্ঞানের সন্ধানে অবতরণ করেন, ফলে তাঁর শিক্ষক হাতে গনা কয়েকজন হতে পারে না বরং তাঁর শিক্ষক অগণিত ও অসংখ্য। ইমাম যাহাবী (রহ.) বলেন : ইমাম আহমাদ (রহ.) ‘‘মুসনাদে আহমাদ’’ গ্রন্থের হাদীসসমূহ যে সব শিক্ষক হতে গ্রহণ করেন তাঁদের সংখ্যা হলো দুইশত তিরাশি (২৮৩) জন।[9] এছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে বহু সংখ্যক শিক্ষক রয়েছেন। নিন্মে প্রসিদ্ধ কয়েকজন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হল[10]:

(১) ইমাম সুফইয়ান বিন উয়ায়নাহ (রহ.)।

(২) ইমাম ওয়াকী বিন আল জাররাহ্ (রহ.)।

(৩) ইমাম মুহাম্মদ বিন ইদ্রীস আশ্শাফেয়ী (রহ.)।

(৪) ইমাম আব্দুর রায্যাক আস সানআনী (রহ.)।

(৫) ইমাম কুতাইবাহ বিন সাঈদ (রহ.)।

(৬) ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী (রহ.)।

(৭) ইমাম ইবনু আবী শাইবাহ (রহ.) ইত্যাদি।

ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর ছাত্র বৃন্দ : ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহ.)-এর ছাত্র অগণিত হওয়াই সাভাবিক, তাদের সংখ্যাও গণনা সম্ভব নয় এবং তালিকাও বর্ণনা সহজ নয়। যিনি লক্ষাধিক হাদীসের হাফেয, চল্লিশ হাজার হাদীস গ্রন্থের সংকলক তাঁর ছাত্র বিশ্বজুড়ে হওয়াই সাভাবিক । যার মাজলিসে পাঁচ হাজার পর্যন্ত ছাত্র থাকত, নিম্নে কয়েকজন নক্ষত্রতুল্য ছাত্রের নাম উল্লেখ করা হল[11]:

১. ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল আল বুখারী (রহ.)।

২. ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজ আল কুশায়রী (রহ.)।

৩. ইমাম আবূ দাঊদ আস সিজিস্তানী (রহ.)।

৪. ইমাম আবূ ঈসা অত্তিমিযী (রহ.)।

৫. ইমাম আবূ আব্দুর রহমান আন্নাসাঈ (রহ.)।

৬. ইমাম সালিহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল (রহ.)।

৭. ইমাম আব্দুল্লাহ্ বিন আহমাদ বিন হাম্বল (রহ.) ইত্যাদি।

ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর রচনাবলী : প্রসিদ্ধ চারজন ইমামের মধ্যে যিনি সবচেয়ে বেশী গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি হলেন ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহ.)। শুধু তাই নয় বরং তাঁর সংকলিত হাদীস গ্রন্থ ‘‘মুসনাদ’’ সর্ব প্রসিদ্ধ। ইমামের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ নিম্নে বর্ণনা করা হলো[12]:

১. হাদীস গ্রন্থ ‘‘আল মুস্নাদ’’ (হাদীস সংখ্যা চল্লিশ হাজার)।[13]

২. আয্যুহ্দ।

৩. ফাযায়িলুস সাহাবাহ।

৪. আল ঈলাল ওয়া মারিফাতির রিজাল।

৫. আল ওয়ার‘।

৬. কিতাবুস সালাত।

৭. আর্রাদ্দ আলাল জাহমিয়্যাহ।

৮. রিসালাতু ইমাম আহমাদ।

৯. আল মাসায়িল।

১০. আহ্কামুন্নিসা।

১১. কিতাবুল মানাসিক।

১২. কিতাবুস্সন্নাহ, ইত্যাদি।

ইমাম আহমাদ (রহ.) সম্পর্কে আলিম সমাজের প্রশংসা :

(১) ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী (রহ.) বলেন : আল্লাহ তা’আলা রাসূল (ছাঃ)-এর পর দু’জন ব্যক্তির মাধ্যমেই ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন হলেন আবূ বকর < যার মাধ্যমে মুরতাদ ও ভন্ড নাবীদের দমন করেছেন, আর অপরজন আহমাদ বিন হাম্বল, যার মাধ্যমে কুরআনের মানহানীর সময় কুরআনকে সমুন্নত করেছেন।[14] (২) ইমাম আব্দুল ওয়াহ্হাব আল ওয়াররাক (রহ.) বলেন : ‘‘আমি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মত আর কাউকে দেখিনি, তাকে জিজ্ঞাসা করা হল আপনি অন্যের চেয়ে ইমাম আহমাদের মাঝে জ্ঞান-গরিমার বা মর্যাদার বেশী পেয়েছেন কি? তিনি বললেন : ইমাম আহমাদ এমন একজন ব্যক্তি যাকে ৬০,০০০ (ষাট হাজার) প্রশ্ন করা হল, তিনি সকল প্রশ্নের জবাবে হাদ্দাছানা ওয়া আখ্বারানা অর্থাৎ শুধু হাদীস হতে জবাব দিয়েছেন অন্য কিছু বলেন নি।[15] (৩) ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেন : আমি বাগদাদ হতে বের হয়ে ইমাম আহমাদের চেয়ে অধিক আল্লাহভীরু, তাকওয়াশীল, ফাকীহ ও জ্ঞানী আর কাউকে পাইনি।[16] ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর ইন্তেকাল : জন্মের পরই মৃত্যুর পর্ব, আল্লাহ তা’আলার এ নিয়মের ব্যতিূম মহামানব মুহাম্মদ (ছাঃ)-এর ক্ষেত্রেও ঘটেনি, ঠিক একই নিয়মের শিকার হলেন আহ্লুস্সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ইমম- ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহ.)। ২৪১ হিজরী ১২ রবিউল আউয়াল শুূবার সকল মাখলুককে ছেড়ে মহান খালিক এর ত্বরে পাড়িজমান।[17] আল্লাহ তাঁকে জানণাতুল ফিরদাউস দান করুন। আমীন! ইমম (রহ.)-এর জানাযায় এত বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয় যে, ইমাম আব্দুল ওয়াহ্হাব আল ওয়ার্রাক (রহ.) বলেন : জাহেলী যুগে কিংবা ইসলামী যুগে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাবেশ ঘটেছে বলে আমাদের জানা নেই। খোলা মরুভূমিতে প্রথম জানাযা সম্পন্ন হয় যাতে পুরুষের সংখ্যা ছিল ৬-৮ লক্ষ, কেউ কেউ বলেন দশ লক্ষ, আর নারীর সংখ্যা ছিল ৬০ হাজার। এ ছাড়াও কয়েকদিন পর্যন্ত জানাযা চলতে থাকে। জানাযার এ বিড়ল দৃশ্য প্রমাণ করে ইমাম আহমাদ সত্যিই সত্যিই আহ্লুস সুন্নাহ্ ওয়াল জামাআতের ইমাম।

স্বদেশে ফেরার আগে নাগরিকত্ব ভিটেমাটি সহ জাতিসংঘেরশান্তিরক্তী বাহিনী মোতায়নের দাবী -রোহিঙ্গাদের

0

স্বদেশ ফেরার আগে নাগরিকত্ব ভিটে মাটিসহ নিরাপত্তার জন্য মিয়ানমারের রাখাইনে জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন দেশটিতে নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। প্রত্যাবাসনের তালিকায় নাম থাকা একাধিক রোহিঙ্গা এবং বিভিন্ন ক্যাম্পের মাঝিরা (রোহিঙ্গা নেতারা ) এমন তথ্য জানিয়েছেন।

রোহিঙ্গা পরিচয়ে নাগরিকত্ব প্রদান, নিজস্ব জমি-বসত ভিটা ফেরত, মিয়ানমারের অন্যান্য গোষ্ঠীর মতো সমান মর্যাদা নিশ্চিত করা, হত্যা ধর্ষণের বিচার ও ক্ষতিপূরণ, আগের সহিংসতার ঘটনায় না ফাঁসানোসহ এরকম অনেক দাবী তাদের।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের জাহেদ হোসেন, জোবাইদা, সানজিদা বেগমসহ একাধিক রোহিঙ্গা বলছিলেন, অনেক কষ্ট করে আমরা এসেছি। আর দুদিন পর দুই বছর পূর্ণ হবে। এখন আর যেতে চাই না। কোনও রোহিঙ্গা নাগরিকত্ব ও সমঅধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফেরত যাবে না। কারণ মিয়ানমার সরকার মিথ্যাবাদী। তাদের কোনোভাবে বিশ্বাস করা যাচ্ছে না। আমাদের রোহিঙ্গা কার্ড দিতে হবে। নিরাপত্তা দিতে হবে। জাতিসঙ্ঘের আর্মি দিতে হবে। বিচার করতে হবে।

ময়নাঘোনা ক্যাম্পের মুহসানা খাতুন ও জিয়াবুর রহমানের স্পষ্ট বক্তব্য, এখন তারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে প্রস্তুত নন। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারে নিপীড়নের মুখে গত কয়েক দশকে উখিয়া-টেকনাফের ৩০ টি শিবিরে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

তবে জাতিসঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওই অভিযান এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে মুখে শরণার্থীদের ফেরত নিতে সম্মত হয় মিয়ানমার। রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরার পথ তৈরি করতে ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর নেপিদোতে দুই দেশের মধ্যে একটি সম্মতিপত্র সই হয়। সেখানে বলা হয়, প্রথম দফায় শুধু এবার আসা শরণার্থীদের ফেরত নেবে মিয়ানমার। ওই সম্মতিপত্র স্বাক্ষরের তিন সপ্তাহের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করে দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করা হবে বলে উল্লেখ ছিল। কিন্তু দুই বছর পার হতে চললেও প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। ২২ আগস্ট থেকে (বৃহস্পতিবার) ফের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কথা শুনে এরই মধ্যে বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরের পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সম্মত হয় মিয়ানমার। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের আগে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছে ইউনিসেফ। মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া শিশুদের নিরাপত্তা ও ভালো থাকার নিশ্চয়তা ছাড়া তাদের ফেরার আলোচনা করা অযৌত্তিক বলেই মনে করছেন ইউনিসেফ।

বিনাদোষে জাহালমের সাজা: দুদকের ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

0

বিনাদোষে জাহালমের জেল খাটার বিষয়ে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।

বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চে দুদকের দাখিল করা প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) জালাল সাইফুর রহমানের স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহালমকে ভুল আসামি করা ৩৩ মামলা পুনরায় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এর আগে আদালতের আদেশে গঠিত দুদকের তদন্ত কমিটি ১১ জুলাই একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। সেখানে বিনা দোষে জাহালমের জেল খাটার বিষয়ে দুদক, মামলার পিপিসহ সব পক্ষের দায় ও সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পরে আদালত দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা জানাতে নির্দেশ দেন।

এর আগে সোনালী ব্যাংকের ১৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা আত্মসাতের ৩৩টি মামলায় জাহালমের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় দুদক।

এদিকে ওইসময় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জাহালম বলেছিলেন, ‘স্যার, আমি জাহালম। আবু সালেক না। আমি নির্দোষ।’ কিন্তু জুট শ্রমিক জাহালমের কোনো কথাই সেসময় পুলিশ কিংবা দুদক শোনেনি। এর ফলশ্রুতিতে আসল আসামি সালেকের পরিবর্তে জাহালমকেই কারাগারে যেতে হয়।

এ নিয়ে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে “৩৩ মামলায় ‘ভুল’ আসামি জেলে: ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না…” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে ২০১৪ সালে আবু সালেক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। এর পর সালেককে তলব করে দুদক চিঠি দিলে সেই চিঠি পৌঁছায় জাহালমের টাঙ্গাইলের বাড়ির ঠিকানায়।

নরসিংদীর ঘোড়াশালের বাংলাদেশ জুট মিলের শ্রমিক জাহালম তখন দুদকে গিয়ে বলেন, তিনি আবু সালেক নন, সোনালী ব্যাংকে তার কোনো অ্যাকাউন্টও নেই। ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আবু সালেকের যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে সেটিও তার নয়।

কিন্তু দুদকে উপস্থিত বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা সেদিন জাহালমকেই ‘আবু সালেক’ হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঘোড়াশাল থেকে জাহালমকে গ্রেফতার করে দুদক।

পরে আদালতেও জাহালম দুদকের পরিচয় বিভ্রাটের বিষয়টি তুলে ধরে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। কিন্তু কেউ তার কথা শোনেননি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কারও কাছে সমাধান না পেয়ে জাহালমের বড় ভাই শাহানূর মিয়া গত বছর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে যান। তার আবেদনে কাশিমপুর কারাগারে গিয়ে জাহালমের সঙ্গে কথা বলেন কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। পরে মানবাধিকার কমিশনের তদন্তে বেরিয়ে আসে, আবু সালেক আর জাহালম একই ব্যক্তি নন।

কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মামলার অন্যতম আসামি নজরুল ইসলাম ওরফে সাগরের সঙ্গে কাশিমপুর কারাগারে কমিশনের কথা হয়। তিনি জানান, আবু সালেক মিরপুরের শ্যামল বাংলা আবাসন প্রকল্পের মালিক।

প্রতিবেদনটি গত ৩০ জানুয়ারি বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত। পরে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। জাহালমের আটকাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে।

২৭ জুন আদালত জাহালমের ঘটনায় দুদকের দায় আছে কি না, তা নির্ণয় করে গঠিত কমিটিকে ১১ জুলাই আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তাদের ভুলে সালেকের বদলে তিন বছর কারাগারে কাটাতে হয় টাঙ্গাইলের জাহালমকে।

কাশ্মীর ইস্যুতে জাতিসংঘের আদালতে যাবে পাকিস্তান

0

কাশ্মীর ইস্যুতে এবার জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস) তুলবে পাকিস্তান। মঙ্গলবার পাকিস্তান সরকার এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি বলেছেন, কাশ্মীর ইস্যুটি আমরা ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সব আইনি বিষয় বিবেচনায় নেয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ওদিকে আলাদাভাবে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তথ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফিরদৌস আশিক আওয়ান মন্ত্রীপষিদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, বিষয়টি ওই আদালতে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রীপরিষদ। এ নিয়ে অভিযোগে পাকিস্তান গুরুত্ব দেবে কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।

উল্লেখ্য, ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস হলো জাতিসংঘের বিচারিক অঙ্গ। জাতিসংঘ সনদের অধীনে ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই আদালত। কাজ শুরু করে ১৯৪৬ সালের এপ্রিলে। এ আদালতকে ওয়ার্ল্ড কোর্ট নামেও অভিহিত করা হয়। এই আদালতের অবস্থান নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে পিস প্যালেসে। জাতিসংঘের মূল ৬টি অঙ্গ। তার মধ্যে শুধু এই ওয়ার্ল্ড কোর্টই নিউ ইয়র্কের বাইরে অবস্থিত। এই আদালতের ভূমিকা হলো, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে রাষ্ট্রগুলো উত্থাপিত আইনি বিরোধ মিটিয়ে দেয়া, আইনি প্রশ্নে পরামর্শ দেয়া। এই আদালতে আছেন ১৫ জন বিচারক। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন ও নিরাপত্তা পরিষদ এসব বিচারককে ৯ বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত করে।

ফিরদৌস আশিক আওয়ান বলেছেন, জাতিসংঘের এই শীর্ষ আদালতে পাকিস্তানের পক্ষে মামলা লড়বেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবীদের একটি প্যানেল। উল্লেখ্য, গত ৫ই আগস্ট একতরফাভাবে জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকার। সাত দশক ওই সুবিধা ভোগ করলেও আকস্মিকভাবে সরকার ওই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। তারা কাশ্মীরে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করে। সাবেক দু’জন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর ফারুক সহ নির্বাচিত নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে। ভারত সরকার তার সংবিধান থেকে বাতিল করে ৩৭০ অনুচ্ছেদ। এর ফলে কাশ্মীরের জমিজমার অধিকার ভারতের অন্য রাজ্যের মানুষ ভোগ করতে পারবে। তারা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবে। বিয়ে করতে পারবে কাশ্মীরে। কাশ্মীর মূলত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু সরকার তার পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সেই জনসংখ্যাতত্ত্বকে পাল্টে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলে অভিযোগ আছে। এসব সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে পাকিস্তান। তারা ইসলামাবাদে নিয়োগ করা ভারতীয় হাই কমিশনার অজয় বিসারিয়াকে বহিষ্কার করেছে। স্থগিত করেছে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য। কাশ্মীর ইস্যুটি নিয়ে গেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে। এতে তাদেরকে সমর্থন করেছে চীন। ওদিকে ভারতের স্বাধীনতা দিবসকে পাকিস্তান পালন করেছে কালোদিবস হিসেবে। অন্যদিকে কাশ্মীরি জনগণের কণ্ঠকে বিশ্বের প্রতিটি ফোরামে তুলে ধরার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এ ইস্যুতে নীরব থাকায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

দেশে কর্মরত ভারতীয়রা বার্ষিক ৬ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছে : কাজী আকরাম

0

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদর বলেছেন, ‘বাংলাদেশের কিছু লোভী লোকের কবলে পড়েছে অর্থনৈতিক সেক্টর। তাদের যে কত টাকা দরকার-এটি নিজেরা নির্ধারণেও সক্ষম হননি। আরো চাই, আরো চাই। সবকিছু পেতে চাই।

এমন কিছু লোকের কারণে কয়েকটি ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। এজন্য গোটা ব্যাংকিং সেক্টরকে দায়ী করা সমীচিন হবে না। ’
কাজী আকরাম উল্লেখ করেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

লুটপাটকারিদের বিরুদ্ধে বিচার হচ্ছে। সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে সেই অর্থ উদ্ধারের’।
বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘যুক্তরাষ্ট্রে স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস’ এর ৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৯ জুলাই সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিগণের সাথে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে কাজী আকরাম উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয়রা বার্ষিক ৬ বিলিয়ন ডলারের মত নিয়ে যাচ্ছে। এ অর্থ বৈধপথে ভারতে যায়, নাকি হুন্ডি অথবা হাতে হাতে যায়, সেটি আমার জানার কথা নয়। এজন্য কর্তৃপক্ষ রয়েছে, তারা সেটি তদারকি করেন।

তবে আমি অনেকবার প্রস্তাব পেশ করেছি যে, ভারতীয়দের নিয়োগের প্রয়োজন হবে না-এমন সব দক্ষ কর্মী বাংলাদেশে তৈরী করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া উচিত। তাহলে এই ৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে যাবে না। বাংলাদেশের মানুষেরাই তা ব্যবহারে সক্ষম হবে। ’
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যে লাসভেগাসে ৩ জুলাই পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী ১০১তম আন্তর্জাতিক লায়ন্স ক্লাবের বার্ষিক সম্মেলনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কাজী আকরাম ‘আন্তর্জাতিক পরিচালক’ পদে নির্বাচিত হয়েছেন। ১২০ দেশের ২০ হাজার লায়ন এতে অংশ নিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এই নির্বাচনে বিপুল ভোটে নিজের বিজয়ী হবার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কাজী আকরাম বলেন, ‘সম্মেলনের ফ্লোরে ভারতের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ দেখেছি। পাকিস্তানকে জঙ্গিরাষ্ট্র হিসেবে বলাবলি হয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশকে সকলেই একবাক্যে ‘উন্নয়নের মডেল’ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। ’
কাজী আকরাম বলেন, ‘একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ শুন্য থেকে যাত্রা শুরু করেছে। জাতির পিতা শেখ মুজিবের নেতৃত্বে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি সম্মুখে এগিয়ে চলার পথে উঠতে যাচ্ছিল, ঠিক সে সময়েই ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যা করে সবকিছু ভন্ডুল করে। এর ২১ বছর পর তারই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই দেশটির হাল ধরেছেন। এখন বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা সূচকেও বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। সেই দেশটি যাতে আরো বেগবানভাবে এগিয়ে চলে সে জন্যে প্রবাসীদের সরব থাকতে হবে। ’
কাজী আকরাম বলেন, যমুনা সেতু নির্মাণের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর বঙ্গ থেকে মঙ্গার বিলুপ্তি ঘটেছে। এখন পদ্মা ব্রীজের নির্মাণ কাজ শেষ হলে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারে বার্ষিক যোগ হবে ১.৫% করে। অর্থাৎ উন্নয়নের মহাসড়কে উঠা বাংলাদেশের এগিয়ে চলা ত্বরান্বিত হবে এবং সে জন্যেই শেখ হাসিনা ও তার সরকার এই সেতু নির্মাণের প্রকল্পকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন।
কাজী আকরাম বলেন, ‘স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস প্রবাসে সেবা প্রদানের ব্রত নিয়ে কাজ করছে। নিউইয়র্ক এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮টি শাখা রয়েছে।

এ সময় যুক্তরাষ্ট্রস্থ স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেসের সিইও এম এ মালেক জানান, বর্তমানে ৩২ হাজার প্রবাসী প্রতি মাসে গড়ে ৬ মিলিয়ন ডলার করে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছেন এই ৮টি শাখা থেকে। গত ৮ বছরে পাঠিয়েছি ৩ বিলিয়ন ডলার। ’

অনুষ্ঠানে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের এমডি ও সিইও মামুন অর-রশীদ, ব্যাংকের পরিচালক কাজী খুররম আহমেদও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

গ্রেনেড হামলার রায় বিএনপিকে নতুন সঙ্কটে ফেলবে: ওবায়দুল কাদের।

0

২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা সঙ্গে বিএনপি নেতারা সরাসরি জড়িত- এমন অভিযোগ করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, সেপ্টেম্বর মাসে গ্রেনেড হামলা মামলার রায় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্যই বিএনপি নেতাদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। কারণ, এই রায় বিএনপিকে নতুন করে সঙ্কটে ফেলবে।

আজ (২৪ আগস্ট) রাজধানীর বনানী কবরস্থানে নারী নেত্রী আইভী রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, “আমি তো বুঝতে পারলাম না, কিভাবে প্রভাব পড়বে? আমিসহ ৫০০ জন তো এখনো পঙ্গু। কেউ অর্ধ পঙ্গু, কেউ পুরো পঙ্গু। এই হত্যাকাণ্ডের কি বিচার হবে না? বিএনপি তো আলামত পুড়িয়ে ফেলেছিল। এফবিআইকে তদন্ত করতে দেয়নি। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে আসতে দেয়নি। জজমিয়া নাটক সাজিয়ে ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের, এই নৃশংস গ্রেনেড হামলা যা রক্তস্রোত বইয়ে দিয়েছিল বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে এর বিচার তো তারা (তৎকালীন সরকার) করেনি। প্রহসনমূলক একটি তদন্ত কমিটি করেছিল, সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ছিল হাস্যকর। এখন তাদের (বিএনপি) গায়ে জ্বালা কেন? বিচার হচ্ছে বলেই?”

“২২ প্রাণের প্রদীপ নিভে গেছে আমাদের দলের, সঙ্গে অজানা দুজন। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হলে বিএনপির গাত্রদাহ কেন শুরু হচ্ছে? এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তারা জড়িত, তাদের পরিকল্পনায়, তাদের নির্দেশনায়, তাদের ভাড়া করা রাজনৈতিক কিলাররা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল। বিএনপি সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে, হাওয়া ভবনের সরাসরি পরিকল্পনা এবং নির্দেশনা।”

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের মতে, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হচ্ছে, দেশের মানুষ খুশি। বিএনপি শুধু অখুশি। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে বিএনপি নেতারাই জড়িত। কাজেই, তাদের তো এখানে গায়ে জ্বালা হবেই। তাদের আজকে গাত্রদাহ শুরু হবে, কারণ সেপ্টেম্বরে এই হত্যাকাণ্ডের রায় হওয়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। এই কথা শুনেই বিএনপি এখন চিন্তিত। কারণ, এটা আবার তাদেরকে (বিএনপি) রাজনীতিকে নতুন করে সংকটে ফেলবে। তারা এমনিতেই সংকটে আছে।

তিনি বলেন, “এখানে অন্য কোনো পার্টি নেই, তখন খালেদা জিয়া সরকার। তারাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, কারণ তারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। হত্যাকারী যেই হোক, যত প্রভাবশালী হোক ক্ষমা পাবে না। বিচারের রায় আমরা প্রভাবিত করতে চাই না। নিরপেক্ষ বিচার হচ্ছে, স্বাধীন বিচার হবে। বিচারে যারাই দোষী সাব্যস্ত হবে, শাস্তি তাদেরকে পেতেই হবে।”

কাদের বলেন, “তৎকালীন খালেদা জিয়া সরকার, তারেক রহমান মাস্টার মাইন্ড হাওয়া ভবনে পরিকল্পনা। একুশে আগস্ট বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তখন বিরোধীদলীয় নেতা, সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ করতে গিয়ে আমরা সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলাম। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা সেদিন বেঁচে গিয়েছিলেন।”

আইভী রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানাতে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর প্রমুখ।

একুশে আগস্টের মুলহোতা তারেকের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত : ওবায়দুল কাদের

0


আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমানের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। এ জন্য উচ্চ আদালতে যাওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অবশ্যই উচ্চ আদালতে যাব। এই গ্রেনেড হামলার সাথে জড়িত হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানের জবানবন্দিতে আছে তারেক রহমানের নির্দেশ মেনেই তারা সেদিন অপারেশন চালিয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডের যেমন বিচার হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডদেরও সর্বোচ্চ সাজা হতে হবে।’

আজ বুধবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সে দিন আওয়ামী লীগ সভাপতি আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মূল টার্গেট করে হামলা চালানো হয়েছিলো। আল্লাহর রহমতে তিনি বেঁচে গেছেন। তিনি যখন বেঁচে আছেন, ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে। ২১ আগস্ট হত্যাকাণ্ডেরও বিচার হবে এ বাংলার মাটিতে। বাংলার মানুষ এর জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। আজকের দিনে আমাদের শপথ রাজনীতিতে সন্ত্রাস ও সম্প্রদায়িকতা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মোকাবিলা করবো।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১৫ আগস্ট আর ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ড একই সূত্রে গাঁথা। ২০০৪ সালের এই দিনে তৎকালীন বিরোধী দলের নেত্রী আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান টার্গেট করে সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে সন্ত্রাসীদের দিয়ে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে রক্তস্রোত বইয়ে দিয়েছিল বিএনপি-জামায়াত সরকার।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সরকারি দল এবং বিরোধী দলের মধ্যে যে কর্মসম্পর্ক থাকা দরকার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে সেটা চিরদিনের জন্য শেষ করে দিয়েছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর পরেও খালেদা জিয়াকে গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। খালেদা জিয়া কি ব্যবহার করেছিলো সেটা দেশের মানুষ জানে। খালেদা জিয়ার ছেলে মারা যাওয়ার পর শেখ হাসিনা পুত্রহারা মাকে সান্ত্বনা দিতে তার বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন। সেদিন প্রধানমন্ত্রীর মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংলাপের দরজাও বন্ধ করে দিয়েছে বিএনপি।

তারেকের সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য উচ্চ আদালতে যাওয়া হবে

0

একুশে আগস্ট হত্যাকাণ্ডের যেমন বিচার হয়েছে, ঠিক তেমনই এ হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমানেরও সর্বোচ্চ শাস্তি হতে হবে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

Evenue

ওবায়দুল কাদের বলেন, অবশ্যই আমরা উচ্চ আদালতে যাব। হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানের বক্তব্যে আছে তারেক রহমানের নির্দেশেই তারা সেদিন হামলা চালিয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের যেমন বিচার হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডেরও এমন বিচার হতে হবে।

তিনি বলেন, একুশে আগস্ট আজকের এই দিনে তৎকালীন বিরোধী দলের নেত্রী আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাইম টার্গেট করে সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে সন্ত্রাসীদের দিয়ে রক্তস্রোত বয়ে দিয়েছিল বিএনপি-জামায়াত সরকার। ১৫ আগস্টের পর ২১ আগস্ট, ইতিহাসের এ দুটি ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা। সরকারি দল এবং বিরোধী দলের মধ্যে যে কর্ম সম্পর্ক থাকা দরকার আমি মনে করি, একুশে আগস্টের মধ্য দিয়ে তা চিরদিনের জন্য শেষ হয়ে গেছে।

Evenue

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, এরপরও খালেদা জিয়াকে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে সামনে রেখে গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। এরপরও আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা পুত্রহারা মাকে সান্ত্বনা দিতে তার বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন। কী দুর্ব্যবহার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করা হয়েছে! বাংলার মানুষ জানে। সেদিন প্রধানমন্ত্রীর মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংলাপের রাস্তায় বন্ধ করে দিয়েছে বিএনপি।

তিনি আরও বলেন, একুশে আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার আদালতে হয়েছে। এখন পেপারবুক তৈরি হচ্ছে, এরপর ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কর্ম সম্পর্কে ওদের কথা যারা বলে, আমি বলবো, এর জন্য দায়ী বিএনপিই। ১৫ আগস্ট রক্তাক্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে যেটা তারা তৈরি করেছে, তা ভুলে যাওয়া আমাদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব না।

Weather

Dinajpur
light rain
29.4 ° C
29.4 °
29.4 °
74 %
4kmh
100 %
Fri
34 °
Sat
28 °
Sun
31 °
Mon
36 °
Tue
35 °