31.8 C
Dinajpur
Wednesday, March 20, 2019
Home Blog

মসজিদে ত্রাসের বুলেট : সাইফ সিরাজ

0

মসজিদে ত্রাসের বুলেট

সাইফ সিরাজ

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে ত্রাসের বুলেট
নিয়ে গেছে অগণিত প্রাণ
তারা আমাদের ভাই সবাই মুসলমান।

সন্ত্রাস এখনও তোমাদের ঘরেই বাড়ে
তবুও জিহাদকে বলো জঙ্গীবাদ
বানাও মুমিনের বিরুদ্ধে মিথ্যে সংবাদ

তীব্র ঘৃণায় ধিক্কার জানাই বুলেটবাজির
শাহাদাতের সুধায় জান্নাতে যাও
হে আমার ভাই! আমাদের ধিক্কার দাও!

তোশকের ভেতর থেকে দুই লাখ টাকার গাঁজা

0

সৈয়দ জুনাইদ আযহারী সিলেট প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তে তোশকের ভেতর থেকে প্রায় দুই লাখ টাকার ভারতীয় গাঁজার চালানসহ জালাল মিয়া নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার জব্দকৃত গাঁজা, নগদ টাকাসহ জালালকে তাহিরপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
যার্ব ৯ সিপিসি ৩ সুনামগঞ্জ ক্যাম্পের লে. কমান্ডার ফয়সাল আহমদ, এএসপি আবদুল খালেক ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সাজেদুল হাসানসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে ওই মাদকদ্রব্য, নগদ টাকা জব্দ ও মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেন।

ওই মাদক ব্যবসায়ী উপজেলার বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী উত্তর মোকশেদপুর গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে।
জানা গেছে, সুনামগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তা ও র্যাব -৯ সিপিসি ৩ সুনামগঞ্জ ক্যাম্পের টহল দলের সহযোগিতায় জেলার তাহিরপুরের সীমান্তবর্তী উওর মোকশেদপুর গ্রামে সোমবার রাতে অভিযান চালান। ওই অভিযানে সীমান্তের চিহ্নিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী জালালের বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে খাটিয়ার ওপর বিছানো তোশকের ভেতর থেকে ১৭ কেজি ভারতীয় গাঁজা ও ২২ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়। একই সময় জালালকেও আটক করা হয়।
জব্দকৃত গাঁজার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

মঙ্গলবার বিকালে সুনামগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক মোঃ শোয়েব আহম্মদ চৌধুরী বাদী হয়ে জালালের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

সিলেট-তামাবিল সড়কে প্রাইভেটকার উল্টে নিহত ১

0

সৈয়দ জুনাইদ আযহারী সিলেট প্রতিনিধি :: সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে রাখা বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা লেগে উল্টে গেলে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ৩ জন।
বুধবার (৬ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তি হলেন ঢাকার উত্তরা ১৪নং সেক্টরের জাহিদ আহমদ (৩২)। আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সিলেট থেকে প্রাইভেটকারটি জাফলং যাচ্ছিলো। পথে বাঘের সড়ক এলাকায় এসে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে রাখা বিদ্যুতের খুঁটির উপর উল্টে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকারের আরোহী জাহিদ আহমদ মারা যান।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তা মাসুক আহমদ বলেন, খবর পেয়ে আমরা নিহতের লাশ উদ্ধার করে নিয়ে এসে উসমানি মেডিকেল ভর্তি করাই।

আমার দিন-রাত : ফাতেমাতুয যাহরা স্মৃতি

0

আমার দিন-রাত
ফাতেমাতুয যাহরা স্মৃতি

সূর্য ডুবে নদীর জলে
রাঙা বিকেল বেলা
এবার সবার সাঙ্গ হলো
মজার মজার খেলা।

ঘরে ফিরে হাত-পা ধুয়ে
নিত্যদিনের পড়া
বাবার আদেশ, মায়ের বকা
নিয়ম কড়া কড়া।

রাতের বেলা খাওয়া শেষে
দেইযে এবার ঘুম
মায়ের বুকে মাথা গুজে
পাইযে সুখের উম।

সকাল হলেই নাস্তা করে
যাই ছুটে যাই ইস্কুলে
মায়ের স্নেহ, বাবার আদর
বিলকুল সব ভুলে।

বাসায় আমি ফিরে আসি
ইস্কুল হলে ছুটি
আমায় দেখে ছোট ভাইটি
হেসে হেসে কুটি কুটি।

দি আইডি এইডের সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্টান

0

সৈয়দ জুনাইদ আযহারী সিলেট জেলা প্রতিনিধি ::
কারিগরি শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত কম্পিউটার ট্রেনিং প্রতিষ্টান “দি আইটি এইড” এর বেসিক কম্পিউটার এন্ড ইন্টারনেট এবং গ্রাফিক ডিজাইন সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্টান আজ (রবিবার) বিকাল প্রায় ৪টার দিকে অনুষ্টিত হয়। উক্ত অনুষ্টানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্টানের চেয়ারম্যান, হেক্সাস এডুকেশন (ডিরেক্টর) এবং হেক্সাস জিন্দবাজার  (মেনেজিং ডিরেক্টর) মোঃ সুলতান আহমদ সাহেব। তিনি বলেন, বর্তমান যুগে কম্পিউটার শিক্ষার কোন বিকল্প নাই, তাই লেখা পড়ার পাশাপাশি কম্পিউটার শিক্ষা করার অহ্বান জানান। আরও উপস্থিত ছিলেন, অত্র প্রতিষ্টানের শিক্ষক মোঃ আজিজ, মোঃ ফরিদ আহমদ, সায়েক আহমদ চৌধুরী, শায়খুল আলম অপি, খুরসেদ আলম তানবির এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ।

ওঝার জীবন : ই এস বি

0

ওঝার জীবন
ই এস বি

বড় হয়ে জন্ম নিলাম
এটাই এখন পাপ,
এই ধরাতে ওঝা আমি
সবাই যেন সাপ।

ওঝার গায়ে ছোবল শত
বিষে শরীর নীল,
ওঝা মরে বিষ ক্রিয়ায়
কাঁদে সদা দিল।

ওঝা হয়ে যাদের বাঁচাই
তারাই ছোবল মারে,
জন্ম থেকে কষ্ট ওঝার
কষ্ট বুঝায় কারে?

বিষে বিষে ওঝার শরীর
আর কতদিন যাবে?
বড় হয়ে-ই জন্ম নিলাম
তাইতো সবাই খাবে।

অভিমানে ওঝা একদিন
যাবে কোথাও চলে,
বুঝবে সেদিন ওঝার কথা
ভাসবে নয়ন জলে।

ওঝায় নামায় সবার বিষ
ওঝার বিষ কে নামায়?
বড় হয়ে-ই পাপ করেছি
ক্ষমা করো আমায়।

কাকরাইল থেকে যে সব মূল্যবান জিনিস চুরি করেছে সাদের অনুসারীরা

0

কাকরাইলে দুই সপ্তাহের রাজত্ব করে কাকরাইলের অনেক টাকা সহ মূল্যবান সামানা হাতিয়ে নিয়েছে সাদের অনুসারীরা

কাকরাইলের মুরুব্বিরা জানান, সাদ পন্থীদের ১৪দিন ( ১, ২, ১৯ থেকে ১৪, ২, ১৯) পর্যন্ত সময়ে নিম্নলিখিত জিনিসপত্র পাওয়া যাচ্ছে না।

বিদেশী খানার কামরা থেকে
১. ষ্টিলের বড় রাইস প্লেট = ৬৫০টি
২. ষ্টিলের ছোট প্লেট = ৪৫০টি
৩. মেলামাইনের হাফ প্লেট = ৪০০টি
৪. চা বানানোর ছোট বড়
পাতিলসহ সমগ্র সামানা = নেই
৫. চা কাপ = ৩০০পিস
৬. সসপেন বড় ছোট = ৭টি
৭. দস্তর খানা (১০০ফিট) = ১০টি
৮. সিরামিকসের দামী প্লেট = ৫০টি
৯. রোটি তৈরির খাটি = ৩০০টি

মেইন ষ্টোর মসজিদ বিছ তলা
১. কাপড়ের ভোল = ১টি
২. কম্বল =১০০পিস
৩. নতুন পাতিল(বড়) = ৮টি
৪. পর্দার কাপড় = ৮০পিস
৫. বালতি = ২০টি
৬. অন্যান্য অনেক পুরনো
জিনিস পত্র নেই

ফরেন টেস্ট (খিমা) ( আরব ইংরেজী উর্দু)
ইংলিশ খিমায় একটি ঘরি ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।
হারিয়েছে, ১টি মাঝারি ট্রাংক, ৪টি চেয়ার, ৪টি দেয়াল ঘড়ি, ৩টি তালা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

একজন থাইল্যান্ড মেহমানের (আলেম) ২০ হাজার টাকার কিতাব হারানো গিয়েছে। এছাড়া ২ লক্ষ টাকার ঔষধ পাওয়া যাচ্ছে না।

এনিয়ে নতুন কোন সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মুরুব্বিরা যুবকণ্ঠকে জানান, অচিরেই এর একটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটা মাশোয়ারার পর জানানো হবে।

এর আগে সাদ পন্থীদের রিজার্ভ এর ৭৫,০০০ হাজার টাকার হিসাব নেই। বিদেশী খানার কামরার ৬০০০০০ টাকা খরচ করে,দু সাপ্তাহে, ইন্জিয়ার মাহফুজের রুমের তালা ভেঙ্গে ভিবিন্ন কাগজপত্র ( জরুরী) নিয়ে গেছে প্রায় তালাগুলির নকল চাবি বানিয়েছে, মাওঃ যুবায়ের সাহেব (দাঃবাঃ) এর পানের বাটা এবং পিক দানি নেওয়ার সময় এক এতায়াতি হাতেনাতে পাকড়াও হয় পরে চোরকে প্রশ্ন করা হলে উত্তর দেয় বরকতের জন্য পিকদানি চুরি করছি ৷ এই হলো কাকরাইলের অবস্তা।

সকাল ৭ টায় কাকরাইল যাওয়ার পর দেখা যায়, যারা নাদান( যারা ওলামাদের বুঝ এর কাছে নতি স্বীকার করেছে ) এমন অনেক ভাইরা কাকরাইলে ঢুকছে।

টঙ্গি থেকেও ৪ টি গাড়িতে করে নজমের সাথিরা কাকরাইলে চলে আসলেন। যারা ২ সপ্তাহ ধরে টঙ্গির নজমে কাজ করছিলেন। তারা জার জার নজমে চলে গিয়েছেন, পরিস্কারও শুরু করে দিয়েছে অনেকে।

আল্লাহর ৯৯ নামে কোনো সহিংসতা নেইঃ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0

শুক্রবার মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন অর্গাইনাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) এর পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, শাব্দিকভাবেই ইসলাম অর্থ শুধু শান্তি নয়। আল্লাহর ৯৯টি নামের কোনোটির অর্থই সহিংসতা নয়। একইভাবে প্রত্যেক ধর্মই শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের কথা বলেছে।

সুষমা আরও বলেন, পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে ‘লা ইকরাহা ফিদ-দ্বীন’। অর্থাৎ ধর্মের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। তিনি বলেন, সূরা হুজরাতে বলা হয়েছে- হে মানবজাতি, আমি তোমাদের এক জোড়া পুরুষ ও নারী থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও সম্প্রদায়ে বিভক্ত করে দিয়েছি। যেন তোমরা একে অপরকে চিনে নিতে পার। তাদের কেউ একে অপরকে ঘৃনা করতে পারে না।’

দীর্ঘ বক্তব্যে বিভিন্ন মুসলিম দেশের সঙ্গে ভারতের আর্থ-সামাজিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন সুষমা। মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির বিশাল জনগোষ্ঠী কাজ করে সেকথাও স্মরণ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ভারতে সাড়ে ১৮ কোটি মুসলিম শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে উল্লেখ করে সুষমা স্বরাজ বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ১৩০ কোটি নাগরিক যার মধ্যে সাড়ে ১৮কোটি মুসলমান ভাই-বোন রয়েছে; তাদের পক্ষ থেকে আমি আপনাদের অভিবাদন জানাই।

ভারতের ভিন্ন সংস্কৃতির সব রাজ্যেই মুসলিমরা বসবাসর করছে। তারা তামিল, তেলেগু, মালাইলাম ও মারাঠি, বাংলা এবং বজপুরিসহ সব ভাষায়ই কথা বলে। তারা বিভিন্নরকম খাবার খেয়ে সেখানে অভ্যস্ত।

তারা এসব অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ও নৃতাত্ত্বিক ঐতিহ্যকে ভালবাসে এবং প্রজন্মান্তরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে অন্য অমুসলিম জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বসবাস করে আসছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের বৈচিত্রপূর্ণ সমাজ ও সহাবস্থান সত্যি প্রশংসাযোগ্য। তবে সেখানে অল্পসংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠী বিষাক্ত ও উগ্র মতাদর্শ ছড়ানোর চেষ্টা করে।

পাকিস্তানের দিকে ইঙ্গিত করে সুষমা বলেন, ‘মানবসভ্যতাকে বাঁচিয়ে রাখতে সব রাষ্ট্রকে জানাতে হবে— জঙ্গিদের আশ্রয় ও প্রশ্রয় কারা জোগায়। সেই দেশগুলিতে জঙ্গি আস্তানাগুলি যাতে ধ্বংস করা হয় এবং পুঁজির জোগান বন্ধ হয়, তার জন্য পদক্ষেপ করতে হবে।’

সুষমা আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে লড়াইয়ে জিততে শুধু সামরিক ও কূটনৈতিক হাতিয়ারই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন ধর্মের প্রকৃত অর্থ ব্যাখ্যা ও তার প্রচার।সুষমা ওআইসি-র সঙ্গে যৌথ সহযোগিতার যে ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করেছে, তার মধ্যে অগ্রাধিকার পেয়েছে ঘৃণাকে সরিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দেওয়া, যুবশক্তিকে ধ্বংসের পথ থেকে সরিয়ে আনার মতো বিষয়গুলি।উল্লেখ্য ভারতকে আমন্ত্রণ জানানোয় একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর মুসলিম দেশ পাকিস্তান ওই সম্মেলন বর্জন করে।

 

বিভিন্ন ঘটনার লাইভ করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন

0

প্রথম যখন একটি কাঠের সেতু বানালেন, কানাঘুষা শুরু হলো—এ আবার কোন নাটক! কেউ কেউ এটাকে একধরনের ‘পাগলামো’ বলে ঠাওরালেন। নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো আরকি। কেউ কেউ আবার ভাবলেন, নির্বাচনে দাঁড়ানোর ধান্দা। কিন্তু এসব কথায় কান না দিয়ে একে একে ২১টি কাঠের সেতু বানালেন তিনি। এবার সবার ভুল ভাঙল। না, মানুষটা ঠিকই কাজের।

এবার তিনি পারিপার্শ্বিক সমস্যাগুলো লাইভ করতে লাগলেন ফেসবুকে। পাওয়া গেল কর্তৃপক্ষের আশাব্যঞ্জক সাড়া। এভাবে আজ তিনি হাজারো মানুষের প্রিয় একজন। তিনি ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। হাইকোর্টের আইনজীবী এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জনস্বার্থে বেশ কিছু রিটের জন্যও তিনি আলোচনায় এসেছেন। এর মধ্যে একটি হলো গণমাধ্যমে কিশোর আদালতে বিচারাধীন কোনো শিশুর নাম–পরিচয় প্রকাশ না করাবিষয়ক রিট।

বুধবার প্রথম আলোর কার্যালয়ে আলাপে বসেই ফেসবুক খুলে সৈয়দ সায়েদুল হক জানিয়ে দিলেন, এখানে আসার মাত্র চার ঘণ্টা আগে দেওয়া একটি লাইভে ভিউ সাড়ে ৫ লাখ, ২১ হাজার শেয়ার, লাইক ৪৯ হাজার এবং সাড়ে ৫ হাজার মানুষ মন্তব্য করেছেন। লাইভের বিষয় ছিল—রাজধানীর নবাবপুরে একটি ট্রান্সফরমারের পাশে অসংখ্য তার পেঁচিয়ে আছে। যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে…।

সৈয়দ সায়েদুল হক বলেন, ‘সরকারি সাহায্য পৌঁছে না—এমন এলাকায় নিজের টাকায় যখন কাঠের ব্রিজ তৈরি শুরু করলাম, তখন অনেকে বলতেন, ব্যারিস্টার তো দেখি নাটক শুরু করছে! কেউ বলতেন পাগলামি করছি। কেউ কেউ ভাবতেন নির্বাচনে দাঁড়াব, নেতা হতে চাই। তবে নিজে উপস্থিত থেকে নিজের টাকায় যখন ২১টি ব্রিজ তৈরি করলাম, তখন অনেকেই ভাবতে শুরু করলেন, আসলেই আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। তারপর আস্তে আস্তে ফেসবুকে চারপাশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে লাইভ দিতে শুরু করি। এখন আর আমাকে নিজের পকেট থেকে খরচ করতে হয় না, প্রশাসন বা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগেই স্বল্প সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলোর সমাধান হয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো লাইভে ভিউজের সংখ্যা ১ কোটি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। শেয়ার হচ্ছে লাখ লাখ। লাখ লাখ মানুষ মন্তব্য করছেন।’

চারপাশের সমস্যা নিয়ে প্রতিনিয়ত ফেসবুকে লাইভ দেওয়ার কারণে তাঁর আইনজীবী পরিচিতির চেয়েও মানবাধিকারকর্মী বা মানুষের বন্ধু হিসেবে পরিচিতি বেড়েছে। অনেকে তাঁর আড়ালে বা সামনেই ‘পাগল’ বলেও ডাকেন। প্রায় তিন বছর ধরে তিনি অভিনব উপায়ে মানুষের জন্য কাজ করছেন।
বিভিন্ন ঘটনার লাইভ করেন সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ছবি: ফেসবুক সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ছবি: ফেসবুক

কিন্তু এভাবে লাইভ করে কয়টি সমস্যার সমাধান করবেন—এ প্রশ্নের উত্তরে সায়েদুল হক বলেন, ‘লাইভ করে আমি শুধু সমস্যাটা তুলে ধরি। কিছু সমাধানের কথা বলি। সমস্যার সমাধান আমি করতে পারব না। মানুষ এবং কর্তৃপক্ষের মগজে মেসেজটি দিতে চাই। কেননা আমি জানি, আমার লাইভের পর সড়কের মাঝখান থেকে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি সরলে বাংলাদেশ পাল্টাবে না। আমার শক্তি কোটি দর্শক। আমার ভিডিও লাখ লাখ মানুষ শেয়ার করছেন, মানে তাঁরাও পরিবর্তন চান। আর মানুষের সমর্থনের পর কর্তৃপক্ষও একটু নড়েচড়ে বসে। এই সব কাজে এখন আর আমাকে পকেট থেকে টাকা খরচ করতে হচ্ছে না।’

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের ছেলে সায়েদুল হক। নিজের উপজেলায়, তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের বাইরে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে আইনজীবী পেশায় আছেন। উপজেলার নিজের স্কুলে গিয়েও একটি লাইভ করেন। এই স্কুলের যে শিক্ষার্থী ব্যারিস্টার হবেন, তাঁকে একটি গাড়ি কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন লাইভে। পরবর্তী ব্যারিস্টার পেতে কমপক্ষে ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। এই লাইভটি ভাইরাল হয়।

সায়েদুল হকের এ পর্যন্ত ভাইরাল হওয়া কয়েকটি লাইভের খবর তিনি জানালেন। হবিগঞ্জে চা–বাগানের ভেতরে একটি ডাকাতির ঘটনায় তিনি লাইভে গিয়ে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য এবং একই সময়ে লাইভে দর্শকদের সামনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এনে হাজির করেন। ওসি বলার চেষ্টা করেন, তিনি নিরাপত্তা টহলের ব্যবস্থা করেছেন। তবে লাইভেই ভুক্তভোগীরা ওসির কথার প্রতিবাদ করতে থাকেন।

ফেসবুক লাইভে যে কাজ হয়, এর উদাহরণও দিলেন সায়েদুল হক। রাজধানীর বাবুবাজার সেতুর বাতি ছিল না, লাইভের তিন দিনের মাথায় বাতি লাগানো হয়। নরসিংদীতে লাইভের ছয় ঘণ্টার মধ্যে সড়কের মাঝখান থেকে বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ করে কর্তৃপক্ষ। শুধু তা–ই নয়, সায়েদুল হক জনস্বার্থে রিট মামলা করলে হাইকোর্ট দেশের ঝুঁকিপূর্ণ সব খুঁটি অপসারণের নির্দেশ দেন।

নারায়ণগঞ্জ থেকে নরসিংদী পর্যন্ত সড়ক বিভাজকে কোনো সাইনবোর্ড ছিল না, চালকেরা বিভ্রান্তির মধ্যে ছিলেন। এক দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়।

রাজধানীর কাঁটাবনে বিদ্যুৎ অফিসের সামনে বালু ফেলে ফুটপাত বন্ধ করা ছিল। এর পাশেই ছিল বড় ডাস্টবিন। লাইভের পর কম সময়ের মধ্যেই তা উধাও।

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ছবি: ফেসবুকব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ছবি: ফেসবুক

গুলিস্তানের শুরিটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ডাস্টবিন ছিল। স্কুলের ১ হাজার ৫০০ বাচ্চার মুখের সামনে ছিল এটি। তবে লাইভের পর ছয় ঘণ্টার মধ্যে তা অপসারণ করা হয়। ময়লার ডাস্টবিনের ভেতরে দাঁড়িয়ে লাইভ করেছিলেন সায়েদুল হক।

সমস্যা সমাধানের পর সায়েদুল হক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য আবার ঠিক ওই জায়গায় গিয়ে লাইভে হাজির হন। এতে মানুষের মধ্যে একধরনের বিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে ‘পাগলামি’ করেও সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

সায়েদুল হকের স্ত্রী শাম্মী আখতার নিজেও আইনজীবী। তবে বর্তমানে ঘরেই সন্তানদের সময় দিচ্ছেন। এই দম্পতির চার বছর বয়সী ছেলে ও ছয় বছর বয়সী মেয়ে আছে। সায়েদুল হক এই ফেসবুক লাইভ, মানুষের জন্য কাজে সময় বেশি দেন বলে স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে মাঝেমধ্যে বিরক্ত হন। তবে মেনেও নিয়েছে পরিবারের সদস্যরা।

সায়েদুল হকের কথা, ‘আমাকে এ ধরনের কাজ করতে কেউ বাধ্য করছে না। আমিও স্বার্থপর হয়ে যেতে পারি। কাজ করার ইচ্ছা না–ও থাকতে পারে। তাই যত দিন পারি, তত দিন এই কাজ করব। আর পৈতৃক সূত্রেই আমাদের পরিবারের সম্পত্তি একেবারে কম না। আমার বাবা মারা গেছেন। মা আমেরিকায় বোনদের কাছে থাকেন। তবে মাকে বলা আছে, আমি বিপদে পড়লে তিনি আমার স্ত্রী ও বাচ্চাদের দেখবেন। আমরা চার বোন, দুই ভাই। আমার বিশ্বাস, ভাইবোনেরাও এগিয়ে আসবেন।’

সায়েদুল হক নিজের কাজের পাশাপাশি যেখানেই সমস্যা দেখেন, সেখানেই লাইভ করার জন্য থামেন। আর প্রতি সপ্তাহে গ্রামের বাড়ি যান। সেখানেও তাঁর কাজের অন্ত নেই। স্কুলের বাচ্চাদের ফুটবল কিনে দেওয়া, ল্যাপটপ দেওয়া, টিউবওয়েল বসানো চলছেই। এ ছাড়া এই ব্যারিস্টার সায়েদুল হক উপজেলায় ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন, উপজেলার কোনো ছেলেমেয়ের যাতে শুধু টাকার অভাবে লেখাপড়া বন্ধ না হয়। শিক্ষার যে স্তরই হোক সহায়তা অব্যাহত রেখেছেন তিনি।

সায়েদুল হকের মতে, ‘কে কী কাজ করবেন বা এ কাজ কার করার কথা ছিল—এসব ভেবে সময় নষ্ট করি না। আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে উদাহরণ তৈরি করতে চাই। বসে না থেকে কাজ করে যেতে চাই। আমি নিজের জন্য সঞ্চয় করতে পারিনি। ঢাকা শহরে ফ্ল্যাটের মালিক হইনি। ফ্ল্যাটে না ঘুমিয়ে মারা গেলে কী এমন ক্ষতি হবে? ’

তরুণদের নিয়ে ৪০ বছর বয়সী সায়েদুল হকের অনেক স্বপ্ন। তিনি বলেন, তরুণদের মনে রাখতে হবে সমাজসেবা করতে হলে সর্বস্ব দিয়েই করতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করতে হলে বড় কলিজা লাগে। আর নেতা মানে নিজের পকেট ভরা না। সংগ্রামের ভাষণ দিয়ে নিজে ধনী হওয়া না। পরবর্তী প্রজন্মের সামনে এ ধরনের রোল মডেল তৈরি করতে পারলে তরুণেরা আর বিপথে যাবে না।

সায়েদুল হক রীতিমতো ‘সেলিব্রেটি’ হয়ে গেছেন। প্রথম আলোয় আসার পর থেকে প্রথম আলোর বিভিন্ন বিভাগের কর্মীরা এসে তাঁর সঙ্গে একটি সেলফি তোলার জন্য আবদার করেন। কেউ কেউ ফোন নম্বর নিয়ে যান। সায়েদুল হক হাসিমুখেই সবার আবদার পূরণ করছিলেন।

ভারতজুড়ে ‘থ্যাঙ্ক ইউ ইমরান খান’

0

জন্মগত শত্রুদেশের প্রধানমন্ত্রী শান্তির বার্তা দিয়ে আটককৃত ভারতীয় বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাকে ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দেবেন – এমনটা কল্পনাও করতে পারেননি ভারতীয়রা। দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এমন ইতিহাস সৃষ্টিকারী পদক্ষেপের জন্য ইমরান খানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভারতের সব স্তরের মানুষ।

৩৫ বছর বয়সী এই পাইলটকে বুধবার থেকে পাকিস্তানে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তার মিগ-২১ বাইসন যোদ্ধা জেট বিমান জম্মু ও কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর জেটে আক্রমণ করেছিল। এরপর তাকে আটক করে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। বহু নাটকীয়তার পর বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টে দেয়া ভাষণে দেশটির প্রধামন্ত্রী ইমরান খান অভিনন্দনকে ফেরত দেয়ার ঘোষণা দেন।ইমরান খানের ঘোষণায় খুশির ফোয়ারা বইছে গোটা ভারতজুড়ে।

আটক ভারতীয় পাইলট উইং কমান্ডার অভিনন্দন ফিরবেন। তাই ওয়াগা সীমান্তে রীতিমত আয়োজন চলছে। সেই সাথে প্ল্যাকার্ডে ‘থ্যাঙ্ক ইউ ইমরান খান’ লিখে অপেক্ষা করছে ভারতীয়রা। অভিনন্দনকে কিছুক্ষণের মধ্যে ওয়াগা সীমান্ত দিয়ে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অমৃতসর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে আট্টারিতে তাকে স্বাগত জানাতে আজ ভোর ৬ টা থেকেই ভিড় জমিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

বন্ধুদের সঙ্গে আট্টারিতে এসেছেন অমৃতসরের বাসিন্দা জিতেন্দর। তিনি বলেন, আমরা এখানে এসেছি আমাদের দেশের নায়ককে ঘরে স্বাগত জানাতে। আমরা আমাদের এই নায়ককে স্বাগত জানাই। তিনি বিমানবাহিনীর যুদ্ধে প্রভূত সাহস দেখিয়েছিলেন এবং পাকিস্তানিদের হাতে ধরা পড়ার পরেও একটুও বিচলিত হননি।

এদিকে ছেলেকে গ্রহণ করতে ওয়াগা সীমান্তে অপেক্ষা করছেন তার বাবা-মা। বৃহস্পতিবার সকালেই দিল্লি পৌঁছান অভিনন্দনের বাবা ভারতের বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল এস বর্তমান এবং মা শোভা বর্তমান । সেখান থেকে দুপুরে ওয়াগা সীমান্তে পৌছান তারা।

Weather

Dinajpur
clear sky
31.8 ° C
31.8 °
31.8 °
36 %
4.7kmh
0 %
Wed
29 °
Thu
33 °
Fri
35 °
Sat
34 °
Sun
34 °