রাজনীতির চেয়ে ব্যাক্তিনীতিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত!

0
120

রোটারিয়ান শেখ খালিদ সাইফুল্লাহ, সম্পাদক: রাজনীতি করা ভাল, তবে সেটা অন্ধের মত নয়। তবে একটা কথা মনে রাখা দরকার, অন্ধ রাজনীতিবিদের শেষ ফল ভাল হয়না, ইতিহাস তার জ্বলন্ত প্রমাণ। আমরা চাইলে মুসলিম রাষ্ট্র নায়কদের মধ্যে গাদ্দাফির থেকেও শিক্ষা নিতে পারি। অন্ততপক্ষে গাদ্দাফির ইতিহাসটা প্রত্যেক রাজনীতিবিদের একবার  হলেও মুতআলা করা উচিত। তাহলে রাজনীতিবিদ তার অনাকাঙ্ক্ষিত অমঙ্গল থেকে নিচেকে রক্ষা করতে পারবেন।

আমি রাজনীতির চেয়ে ব্যাক্তিনীতিকে একটু বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। কারণ বর্তমানের রাজনীতি মনুষকে অমানুষ হতে যথেষ্ঠ সহযোগিতা করে। এটার জ্বলন্ত প্রমাণ বর্তমান বাংলাদেশ। দলিয় পদমর্যাদা টিকিয়ে রাখতে আর নিজেকে বড় ক্ষমতাধর নেতা হিসেবে এলাকায় প্রমাণ করতে আজকের বাংলাদেশে রাজনীতির নামে যেই প্রতিহিংসা চলছে, এটাকে যে যাই বলুক আমি অন্তত রাজনীতি বলতে পারছিনা। গায়েবী মামলা আর গনগ্রেফতার সাধারণ মানুষের মনে এক প্রকার আতংক সৃষ্টি করেছে, অনেকেইতো ভয়ে রাত্রিজাপন করে গহিন জঙ্গলে না হয় পালিয়ে বেরায় এবাড়ি থেকে ওবাড়ি। এটাকেও কি আপনি রাজনীতি বলবেন? আপনি বলতে পারলে ও আমি এটাকে রাজনীতি বলতে পারছিনা। আপনি আপনার এলাকায় দলীয় ক্ষমতা বলে যাদের গনহারে গ্রেফতার করাচ্ছেন, তারা কি আপনার প্রতিবেশী নয়? তারা কি আপনার স্বজন নয়? ওই মানুষ গুলো কি আপনার বিপদে এগিয়ে আসেনা? নাকি আপনি কি ওই মানুষ গুলোর বিপদে এগিয়ে জান না? তাহলে কেন সামান্য একটু দলিয় দাপট বা ক্ষমতা দেখাতে ওই নিরীহ মানুষ গুলোকে গনহারে গ্রেফতার করাচ্ছেন? আছে কি আপনার কাছে এর কোন সঠিক জবাব? নিশ্চই নেই। একমাত্র গোড়ামি ছাড়া যৌক্তিক কোন উত্তর আপনার কাছে থাকার কথাও না। কারণ যৌক্তিক যুক্তিবিদ্যা আমার জ্ঞান সাগরে নেই।

কিছুদিন ধরেই ফেসবুক ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া সহ কাগজের পত্রিকা গুলোতে গনগ্রেফতারের সংবাদ একটু বেশি-ই দৃস্টিতে পড়ছে । রাতের অধারে পুলিশ এনে এক ভাই তার প্রতিবেশী অন্য ভাইকে ধরিয়ে দিচ্ছে,কারণ একটাই রাজনৈতিক কোন্দল বা প্রতিহিংসা । অন্য কিছুইনা। আমরা অনেকেই বঙ্গবন্ধু বা জিয়াউর রহমানের আদর্শে আদর্শিত (নিজেই নিজেকে মনে করি)  বুক ফুলিয়ে নিজেকে তাদের সৈনিক বলে দাবি করে থাকি। আচ্ছা যেই মানুষ গুলো নিজেকে বুক ফুলিয়ে বঙ্গবন্ধু বা জিউর রহমানের সৈনিক মনে করে তাদের ক’জন আছে? যারা বঙ্গবন্ধু বা জিয়াউর রহমানের ব্যাক্তিজীবন সম্পর্কে জ্ঞান রাখে। বঙ্গবন্ধু বা জিয়াউর রহমান তারা কি তাদের ব্যাক্তিজীবনে আপনাদের মতই ব্যাক্তিত্বহিন ছিলেন? নিশ্চই না। আর আমার এমন প্রশ্নের জবাবে নিশ্চই বলবেন আমি সঠিক জানিনা। সঠিক না জেনে কেন নিজের অপকর্মের সাথে তাদের পবিত্র নামটি জড়িয়ে তাদের জীবনিতে কলংক লেপনের পায়তারা করছেন? আমি যতটুক জানি বঙ্গবন্ধু ও জিয়াউর রহমান দুইজনই ব্যাক্তিজীবনে সাধারণ মানুষের সাথে বন্ধুপরায়ণ ছিলেন। নিজে শত কস্ট নিরবে সয়ে সাধারণ মানুষের মঙ্গল কামনা করতেন। শুধু তাই নয় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্যেই তারা তাদের জীবন উৎসর্গ করে গিয়েছেন। এবার বলুনতো আপনারা তাদের আদর্শ কি ভাবে মানছেন? আমি বলব আপনারা এখনো অন্ধকারেই পড়ে আছেন। আরে ভাই এটা আধুনিক যুগ, এই যুগে কেউ নিজেকে অন্ধকারে হারিয়ে রাখেনা। এটা  ঘোড়ামি করার যুগ নয় । এটা আধুনিক যুগ,ডিজিটাল যুগ আপনি চাইলে ঘরে বসেই বিশ্ব ভ্রমণ করতে পারেন অনলাইনের মাধ্যমে। তাহলে আপনি কেন নিজের সামান্য একটু খামখেয়ালির জন্য ইতিহাস বিকৃত করছেন? এখনো সময় আছে ইতিহাস জানুন, আপনি যেই নেতাদের উত্তরসূরী তাদের সম্পর্কে জানুন। আপনি যাকে আপনার রাজনৈতিক আইডল মনে করছেন, অন্ততপক্ষে তার সম্পর্কে একটু ভালো করে জানুন, তার মত হওয়ার চেষ্টা করুন।

 

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে সবারই মন চায়, মন চায় নিজের ভোট নিজের পছন্দ মত প্রার্থীকে দিতে। কিন্তু বিভিন্ন বাধাবিপত্তির কারণে ভোট দেয়া তো দূরের কথা, অনেকেই নিজ এলাকায় যেতেও ভয় পাচ্ছে। এর কারণ কি? প্রতিহিংসার রাজনীতি। প্লিজ প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করুন। অন্ততপক্ষে সাধারণ মানুষের উপর প্রতিহিংসার রাজনীতি প্রয়োগ বন্ধ করুন। নিজেও ভাল থাকুন,সাধারণ মানুষকেও ভাল রাখুন।

সর্বোপরি আমার পক্ষ থেকে দুইটা দাবি জানাই
১.ভোট দেয়ার স্বতন্ত্র অধিকার চাই
২.বাকস্বাধীনতা চাই

বিঃ দ্রঃ আমার কথা গুলো কেউ রাজনৈতিকভাবে দেখবেন না। সম্ভব হলে সুস্থমস্তিষ্কে পড়বেন, আর একটু ভাবার চেষ্টা করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here