যুদ্ধ নয় সন্ধি হোক : আনোয়ার হুসাইন খান সোহেল

0
111

ফেসবুকের অনেক পেইজে কয়েকদিন ধরে দেখছি একটি পোস্ট- আপনি মুসলিম হিসেবে কোন দেশকে সাপোর্ট করবেন? ‘পাকিস্তান’ না ‘ভারত’ ফেসবুক ব্যবহারকারী মুসলিমরা বেশিরভাগ উত্তর দিচ্ছেন পাকিস্তান। কেহ কেহ জবাব দিচ্ছে ‘ভারত’।

এরপর নিজেরা নিজেরা শুরু করছে বাকযুদ্ধ। ভারত ৭১ এ আমাদের সহযোগিতা করেছে তাই আমরা স্বাধীন হতে পেরেছি। আবার কেহ বলছে; ওরা তখন থেকেই বিভিন্ন কৌশলে আমাদেরকে শোষণ করছে। ভারত সীমান্তে পাখির মতো গুলি করে মারছে বাংলার নিরীহ জনগণকে, ইত্যাদি, ইত্যাদি।

যারা ৭১এর গণহত্যার কথা ভুলে গেছে তারা নিঃসঙ্কোচে মুসলিম হিসাবে পাকিস্তানকেই সাপোর্ট করছে। একটা কথা মনে রাখা উচিত; আমাদের সাপোর্টের দ্বারাতে কোনো দেশেরই শক্তি বৃদ্ধি হবে না; যতক্ষণ না সেদেশকে আমরা অস্ত্র, অর্থ, সৈন্য দিয়ে সহযোগিতা না করি।

দুটো দেশই পারমানবিক অস্ত্রের অধিকারী।তাছাড়া তাদের প্রত্যেকেরই বিশাল বিশাল মিত্রদেশ রয়েছে সহযোগিতার জন্য। যুদ্ধ শুরুও হয়নি এবং ওরা আমাদের কাছে সাহায্যও চায়নি। আর আমরা এমন কোনো মহা শক্তিধর রাষ্ট্রও নই যে তাদের সহযোগিতা করতে পারব বিশাল কিছু দিয়ে।

আমাদের দেশের কপি পেস্ট মিডিয়াগুলো উঠেপড়ে লেগেছে যুদ্ধের খবর প্রচারের জন্য। তারা প্রতি সেকেন্ড অপেক্ষা করে কখন নতুন আরেকটি ধ্বংসের খবর আসবে আর তা- তিলকে তাল বানিয়ে প্রচার করবে। এসব পদলেহী সাংবাদিকদের খবরগুলো দেখলে ঘৃণা লাগে। কী ঘটে, আর তারা কি প্রচার করে? আফসোস তাদের জন্য!

একটি বিষয় আমি সাধারণ মানুষ হিসেবে চিন্তা করি সব সময়; আর তা হলো- ভারত বিশাল একটি ভুখন্ড; যদিও সেদেশের শাসক হিন্দু। চিন্তার বিষয় হলো- সেদেশে বিশাল একটি মুসলিম জাতি রয়েছে; যা সেদেশের তুলনায় সংখ্যালঘু।

ভারত -পাকিস্তানের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা যদি বাস্তবেই রূপ নেয়; তখন ‘সাম্রাজ্যবাদ’ রূপ নিবে ‘জাতিগত’ বিবাদে। এই বিশাল মুসলিম জাতিদের তখন কোথায় স্থান হবে? ওরা পাকিস্তানে আশ্রয় নেবে নাকি বাংলাদেশ বা পার্শ্ববর্তী দেশে আশ্রয় নিবে? তখন প্রতিবেশী দেশগুলোর অবস্থা কোথায় দাঁড়াবে? খাদ্য, বস্ত্র, আবাসন, চিকিৎসায় ব্যাপক সংকট দেখা দিবে।

যুদ্ধের ফলে একটি দেশ কী পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়? তা পুনর্গঠন করতে কী পরিমাণ সময় লাগে? আমরা একটা কথা বিশ্বাস করি- ভারত কখনোই জম্মুকে স্বাধীনতা দিবে না। দিবেনা পাকিস্তানের অধীনেও। সম্পদ, আধিপত্যের লোভ তারা কখনোই ছাড়তে পারবে না। তারা চাইবে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে।

তাহলে পাকিস্তান শুধু জম্মু কাশ্মীরকে স্বাধীন করতে বা তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে নিজেদের এত বড় একটি শক্তি বিনষ্ট করবে? নিজের পায়ে কুড়াল নিজেই মারবে? আর যুদ্ধের দাবানল জ্বললে তাতে বাতাস দিবে পুরো কাফির দুনিয়া। এটা তখন তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের রূপ নিবে। নিহত হবে কোটি কোটি মানুষ; বিরানভূমিতে পরিণত হবে এলাকার পর এলাকা।

যুদ্ধ কখনোই স্থায়ী সমাধান নয়। প্রথমে সন্ধি হওয়াই উচিত বলে মনে করি। ইমরান খান যে সন্ধির / আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন তাকে আমরা স্বাগত জানাই।

৪৭ এর পরে এমন কঠিন অবস্থা আর কখনই সৃষ্টি হয়নি বলে অনেকে মন্তব্য করছেন। অনেকে বলছেন; ৭১ আমরা দুই ভাই ভাগাভাগি হয়ে পৃথক দেশে বাস করছি। তাই বলে ভাতৃত্ব ভুলে গিয়ে আমরা তাদের পাশে থাকব না? যুক্তি ঠিক আছে মানলাম। ভারতে যারা মুসলিম আছে তারাওতো আমাদের ভাই। তারা আমাদের এক শরীরের ন্যায়। তাদের কথাও চিন্তা করতে হবে আমাদের সুস্থ বিবেক নিয়ে।

পরিশেষে বলি; আমরা এদেশে বসে হাউ-মাউ-কাউ করলে কোনো কিছুই হবে না। অহেতুক দু দেশের ক্ষতিগ্রস্থদের ছবি আর ভিডিও ভাইরাল করে কী লাভ? আমরা শুধু আল্লাহর কাছে দুআ করতে পারি; যেন যুদ্ধের পরিস্থিতি না হয়। আলোচনার মাধ্যমে দুটি দেশ সমঝোতায় আসুক। পারলে সকল মুসলিম রাষ্ট্রগুলো এক হয়ে আলোচনায় বসুক। এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক সেই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। কেননা ক্ষতি মানুষদেরই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here