ধর্ষণে ব্যর্থ হয়েই হত্যা করা হয় ২ শিশুকে

0
186

ইসলাম বিডি ডেস্ক:: লিপস্টিক দিয়ে সাজিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই শিশুকে বাসায় ডেকে নেয় মোস্তফা ও আজিজুল। ঘরে ডেকে প্রথমে শিশু দুটিকে নিজের স্ত্রীর লিপস্টিক দিয়ে সাজায় মোস্তফা। এরপর তারা দুইভাই মিলে ইয়াবা সেবন করে। তারপর উচ্চস্বরে গান চালিয়ে দুই শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে তারা। কিন্তু শিশু দুটির চিৎকারে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ফারিয়াকে (৫) গলাটিপে হত্যা করে আজিজুল ও নুসরাতকে (৪) গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে মোস্তফা।

ডেমরায় দুই শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যায় জড়িত মোস্তফা ও আজিজুলকে গ্রেফতারের পর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় পুলিশ।

পুুলিশ জানায়, শিশুদের চিৎকার যেন বাইরে যেতে না পারে সে জন্য উচ্চস্বরে গান চালায় আসামিরা। এক অপরাধীর স্ত্রীর সন্দেহ থেকে ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয় বলেও জানায় পুলিশ। এদিকে, ঘটনা তদন্তে মানবাধিকার কমিশন দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।

গত সোমবার ডেমরার কোনাপাড়া এলাকায় বাসার সামনে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় নুসরাত ও ফারিয়া। খোঁজাখুঁজির পর সন্ধান না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ছবি দিয়েও যখন শিশু দুুটিকে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন স্বজন ও এলাকার লোকজন এলাকার বিভিন্ন ঘুপচি পথ ও ডোবার পাশে তাদের খোঁজ শুরু করে। বিভিন্ন খালি বাসা এবং বাসার ছাদেও খোঁজা হয় ওদের। এতে প্রতিবেশী পাঁচতলা বাড়ির নিচতলার ভাড়াটে মোস্তফার শ্যালকসহ স্বজনরাও যোগ দেয়। অবশ্য তখনও মোস্তফা বাসার খাটের নিজে লাশ রেখে বাসায়ই ছিলেন। তবে পালিয়ে যায় আজিজুল। মোস্তফার স্ত্রী পোশার কারখানায় কাজ করেন। রাতে স্ত্রী বাসায় আসলে মোস্তফা স্বাভাবিক আচড়ন না করায় তার সন্দেহ হয়। এরপর স্ত্রী বাইরে চলে গিয়ে লোকজনকে বিষয়টি জানায়, এই সুযোগে ঘর থেকে বাইরে চলে যায় মোস্তফা। এরপর স্ত্রী ফের ঘরে ঢুকে খাটের নিচে শিশুর লাশ দেখতে পেয়ে চিৎকার দেন। খবর পেয়ে পুলিশ শাহজালাল রোডের নাসিমা ভিলার নিচতলা থেকে শিশু দুুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর দোলার বাবা ফরিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ডেমরা থানায় একটি মামলা করেন। গত মঙ্গলবার মধ্যেরাতে যাত্রাবাড়ির ভাঙ্গা প্রেস এলাকা থেকে মোস্তফাকে এবং তার দেয়া তথ্যে ডেমরার কাউন্সিল ব্রিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় আজিজুলকে।

বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডেমরা থানার এসআই শাহ আলম আসামিদের আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম জসিম উদ্দিন আসামি মোস্তফা ও আজিজুলের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

পুলিশের ওয়ারী বিভাগ ডিসি মো. ফরিদুল উদ্দিন বলেন, লিপস্টিকের প্রলোভন দেখিয়ে মোস্তফা তার ঘরে নিয়ে আসে। তদন্তে পেয়েছি, তারা ধর্ষণের উদ্দেশেই বাচ্চা দুটোকে ঘরের মধ্যে নিয়ে যায়। লাউড স্পিকারে গান বাজিয়ে দেয়, যেন তাদের শব্দ না শোনা যায়। মোস্তফা প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত বাচ্চা দুটোকে নিয়ে ঘরে অবস্থান করে। মোস্তফার স্ত্রী যখন বাসায় আসে, তখন তার স্বামীকে অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখেন এবং বাসায় ছোট বাচ্চাদের স্যান্ডেল দেখতে পান।

পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত দুজনই মাদকাসক্ত। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মোস্তফার নামে আগেও মামলা রয়েছে যাত্রাবাড়ি থানায়।

ডিসি আরো বলেন, ওই বাসা থেকে ইয়াবা সেবনের আলামত পাওয়া গেছে। বাচ্চাদের পরা স্যান্ডেল, যে গামছা দিয়ে মারা হয়েছে সেটা এবং সেই ক্যাসেটও উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনা পুর্ব পরিকল্পিত কি না জানতে চাইলে ফরিদ উদ্দিন বলেন, মোস্তফা ফোন করে আগেই আজিজুলকে বাসায় ডেকে নেয়। তার মানে বোঝা যাচ্ছে এখানে পুর্ব কোনো পরিকল্পনা ছিল। তারা একে অপরের মামাতো-ফুফাত ভাই।

তিনি আরো বলেন, এটি বিকৃত মানসিকতা থেকে হচ্ছে। তাছাড়া মাদকাসক্ত এর বড় কারণ। আর যে সমস্ত জায়গায় এসব ঘটনা ঘটছে সেখানে অভিভাবকরা একটু কম সচেতন। আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণ ও আলামত সরবরাহ করে পুলিশ সহায়তা করবে বলেও জানান তিনি।

জানা গেছে, ফারিয়ার মা গার্মেন্টসে কাজ করেন আর ফতুল্লার একটি টিন কারখানায় কাজ করেন। বাবা-মা প্রতিদিন সকালে কাজে চলে যান। দিনভর নানির কাছে থাকত মেয়েটি।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে ফারিয়ার নানি হোসনে আরা বেগম জানান, সোমবার ১০টার দিকে দোলা স্কুল থেকে বাসায় আসে। এর পর গৃহশিক্ষক এসে তাকে ১২টা পর্যন্ত পড়িয়ে যান। তিনি নাতিকে গোসল করাতে পানি গরম করছিলেন। এর ফাঁকেই সে বাসার বাইরে চলে যায়। দুপুরে খাবার সময় চলে গেলেও বাসায় না আসায় খোঁজ পড়ে নাতনির। পরে জানতে পারেন পাশের বাসার নুসরাতকেও পাওয়া যাচ্ছে না।
নুসরাতের বাবা পলাশ মিয়া কাঁচামালের আড়তে কাজ করেন। মা ফাহিমা আক্তার বাসায় থাকেন। তিনি জানান, সোমবার দুপুরের দিকে মেয়েকে গোসল করিয়ে নিজে গোসল করতে যান। তার কিছুক্ষণ আগেই পাশের বাসার ফারিয়া তাদের বাসায় আসে। এর পর দু’জনই বেরিয়ে যায়। কিন্তু খাবার সময় তাদের না পেয়ে খোঁজ করতে থাকেন তারা।

নুসরাতের মা বিলাপ করে বলছিলেন, একমাত্র সন্তানকে নিয়ে তাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। এবারই প্রথম স্কুলে ভর্তি করেছিলেন মেয়েকে। সোমবারই প্রথম স্কুলে যায় সে। ও আর স্কুলে যাবে না।