চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন এ মাস পর্যন্ত ৭ মাসে ৪৬টি পোশাক কারখানা আর ২৫ হাজার ৪৫৩ জন শ্রমিক চাকরি হারিয়েছে-রুবানা হক।

0
89

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন এ মাস পর্যন্ত ৭ মাসে ৪৬টি পোশাক কারখানা আর ২৫ হাজার ৪৫৩ জন শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেদাবি করেছেন পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর সভাপতি ড. রুবানা হক।

গতকাল শুক্রবার তিনি বলেন, ব্যবসার অবস্থা খারাপ হওয়ায় এই সময়ের মধ্যে ৮টি পোশাক কারখানা করে দিয়েছেন মালিকপক্ষ। ভবিষ্যতে এ পরিসংখ্যান আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি। সভাপতি বলেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ইতিবাচক দিকগুলোর চাইতে নেতিবাচক গল্পগুলোই বেশি তুলে ধরছে। এতে করে আমাদের পোশাক খাতগুলোতে ব্যাপকভাবে প্রভাব পড়ছে।

তিনি বলেন, গত সাত মাসে ৪৬টি তৈরি পোশাক কারখানা (গার্মেন্ট) বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চাকরি হারিয়েছেন ২৫ হাজার ৪৫৩ শ্রমিক ও কর্মকর্তা। গার্মেন্ট খাতের এ অবস্থা সার্বিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়াবে। এটা আমাদের গার্মেন্ট খাতে সাংঘাতিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কারণ এতগুলো মানুষের চাকরি গেলে তারা কোন সেক্টরে চাকরি পাবে না’ বিজিএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, সারাক্ষণ আমাদের বলা হচ্ছে আমরা ভালো করছি। আমরা আসলে কোথায় ভালো করছি? ব্যবসার বৈশ্বিক যে আবহাওয়া তাতে আমি মনে করি না আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের আগে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। এতগুলো মাস আমরা সামলাব কীভাবে?

রুবানা হক বলেন, একের পর এক ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সবাই বলছে আমেরিকার জন্য ব্যবসা বাড়বে। ব্যবসা বাড়বে ঠিক আছে। কিছুলোক হয় তো রফতানি করবেন বেশি। কিন্তু ক্ষুদ্র ও মাঝারি যে কারখানা আছে, সেগুলো কিন্তু একটার পর একটা বন্ধ হচ্ছে। এটা কিন্তু আমরা সামলাতে পারছি না। তিনি বলেন, গার্মেন্ট খাতের এই চিত্র সার্বিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়াবে। আগস্টে ব্যবসা কম হয়েছে। সেপ্টেম্বরেও ব্যবসা কম। এবারও আমরা নেগেটিভ যাব। তার মানে আমাদের কোথাও মিসম্যাস আছে।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, গার্মেন্টের প্রচুর সম্ভাবনা আছে। আগামী ১০ বছর আমরা খুব ভালো করতে পারি। তবে আমাদের ওই জায়গায় যেতে হবে। কেন ভিয়েতনাম ভালো করছে? আমরা করছি না। ভিয়েতনামের ব্যবসা প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে গেছে। আমাদের কেন বাড়ছে না বা কেন আমরা ভালো করছি না।
ব্যবসা ভালো করার জন্য গবেষণার ওপর জোর দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আসলে মার্কেট স্টাডি ঠিকমতো করছি না। মার্কেট স্টাডি যদি না করি তাহলে আমাদের পরবর্তীতে কি হবে এবং আমরা কোথায় যাব। এটা একটা বিরাট ব্যাপার আমাদের জন্য। সবমিলিয়ে আমাদের অনেক রিসার্সের (গবেষণার) দরকার আছে। তিনি বলেন, সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা বায়ারদের (ক্রেতা) ব্যবসা বাড়াতে বলব। একই সঙ্গে পণ্যের দাম বাড়াতে বলব।

২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার আগে পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত কোম্পানি ছিল প্রায় ৫ হাজার। ওই দুর্ঘটনার পর ১২শ’ থেকে ১৩শ’ কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩ হাজারের কিছু বেশি। শুধুমাত্র চলতি বছরের রমজান মাসের আগেই ২০ থেকে ২৫টি কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। পরে এখন পর্যন্ত আরও ১৫ থেকে ২০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আর বর্তমানে কারখানা বন্ধের ক্ষেত্রে নতুন ধারা তৈরি হয়েছে। আগে পুরো কারখানা বন্ধ করলেও এখন দেখা যাচ্ছে ১৫ লাইনের ফ্যাক্টরির ক্ষেত্রে দুই বা তিন লাইন বন্ধ করে দিচ্ছে। এতে দুই থেকে তিনশ’ শ্রমিক বেকার হয়ে যাচ্ছে।