খুলল বইয়ের পাতা

0
27

আবার ফিরে এলো বই পড়া ও ঘরে নিয়ে যাওয়ার দিন। বছরজুড়ে নিশ্চুপ থাকা বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হেসে উঠল বইপ্রেমীদের মুখরতায়। রীতি মেনে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে গতকাল শুক্রবার যাত্রা শুরু করেছে অমর একুশে বইমেলা। এর পর ধুলোভরা বইয়ের প্রাঙ্গণে ছুঁয়ে গেছে হাজারো প্রাণের কলরোল। মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টার জন্য উন্মুক্ত হওয়া অমর একুশে বইমেলার প্রথম দিনে নেমেছিল মানুষের ঢল। তবে প্রতিবারের মতো এবারও মেলা শুরুর আগে সম্পন্ন হয়নি সজ্জার কাজ, ঘটিয়েছে বিরক্তির উদ্রেক। খোলামেলা বিন্যাসে সন্তুষ্টি ছিল পাঠক-প্রকাশক সবার কণ্ঠে। এসব ভালো-মন্দ মিলিয়ে নানা নতুনত্বের ছোঁয়া নিয়ে শুরু হয়েছে বাঙালির বই পার্বণ।

বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবেষ্টনী খুলে নিতেই মেলার প্রথম মুহূর্তে নামে জনস্রোত। প্রথম দিনই ছুটির দিন শুক্রবার হওয়ায় নেমেছিল বইপ্রেমীদের ঢল। তবে এ ঢলে বিক্রির হার খুবই কম। ঘুরেফিরে সময় কাটিয়ে দর্শনার্থীরা ঘরে ফিরেছেন বিভিন্ন প্রকাশনীর নতুন বইয়ের তালিকা নিয়ে। তবে বই নিয়ে ঘরে ফেরার দলটিও ছোট ছিল না। আজ মেলার দ্বিতীয় দিনও ছুটির দিন শনিবার হওয়ায় মানুষের সমাগম আরও বাড়বে, এমনটাই প্রত্যাশা প্রকাশকদের। আজ মেলার দ্বার খুলবে সকাল ১১টায়, নিরবচ্ছিন্নভাবে যা চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

‘বিজয় :৫২ থেকে ৭১, নব পর্যায়’- এ প্রতিপাদ্যে শুরু হওয়া মেলার প্রথম দিনেই নজর কেড়েছে এর সুবিন্যস্ত বিন্যাস। চলার পথের প্রশস্ততায় দারুণ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন পাঠকরা। প্রথম দিনের মেলা নিয়ে বেশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে অনুপম প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মিলন কান্তি নাথ সমকালকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকেই মেলায় মানুষ আসছে, এটাই প্রথম দিনের সফলতা। শুক্রবার হওয়ায় মানুষের সংখ্যা এবার বেশি। খোলামেলা পরিবেশে মেলার বিন্যাসে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, এবারের মেলার বিন্যাস পাঠকবান্ধব হয়েছে।

প্রথম দিনের মেলায় এসেছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। অনন্যার প্যাভিলিয়নে বসে অটোগ্রাফ দিচ্ছিলেন তিনি। বললেন, মেলা পুরোটা ঘুরে দেখা না হলেও, এক নজরে তাকালে মন ভরে যায়। চোখে পড়ার মতো বিন্যাস হয়েছে। খোলামেলা এ বিন্যাস পাঠককে মেলায় আসতে আগ্রহী করবে। তবে ধুলোর উপদ্রবটা রয়েছে। শনিবার সেটা কেটে যাবে বলেও আশা করেন তিনি। এবারের মেলায় তার বেশ কয়েকটি বই আসছে। যার মধ্যে অনন্যা থেকে আসছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘একাত্তর ও একজন মা’ এবং বাচ্চাদের দুটি বই এবং অন্যপ্রকাশ থেকে আসছে গল্পগ্রন্থ ‘ফেলে যাওয়া রুমালখানি’।

গতকাল মেলা ঘুরতে এসেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। অনিন্দ্য প্রকাশে বসেছিলেন তিনি। সেখানে বসে তিনি এম আর মাহবুবের সঙ্গে যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষাবীর ‘এম এ ওয়াদুদ স্মারকগ্রন্থ’ বইটিতে অটোগ্রাফ দিচ্ছিলেন। এ ছাড়াও গতকাল মেলায় দেখা যায় প্রাবন্ধিক সৈয়দ আবুল মকসুদকে, কথাসাহিত্যিক মোহিত কামালের সঙ্গে।

সুন্দর বিন্যাসের মাঝে মন খারাপ করার মতো বিষয় ছিল ধুলো। আর প্রায় পনেরোটির মতো স্টল এখনও পরিপূর্ণভাবে চালু করতে পারেননি স্টল মালিকরা। এর মধ্যে রয়েছে মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের প্যাভিলিয়নটি। চালু না হওয়া স্টলগুলোর মধ্যে রয়েছে- একুশে বাংলা প্রকাশন, বই বাজার প্রকাশনী, তিউরি প্রকাশন, পলাশ প্রকাশনী, মাদার্স প্রকাশনী, বাঁশিয়া প্রকাশনী, ঘাষফুল, বিজয় ডিজিটাল, পিয়াল প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন্স ও পরিবার পাবলিকেশন্স।

এ প্রসঙ্গে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ সমকালকে বলেন, ৩৯৫টি প্রকাশনা সংস্থার মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটির কাজ এখনও শেষ হয়নি। তবে শনিবারের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে। আর ধুলো থাকবে না।

এবারের মেলায় প্রথমবারের মতো সংযুক্ত করা হয়েছে ‘লেখক বলছি’। যার প্রথম দিনে কথা বলেন কবি আফরোজা সোমা ও লেখক সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল। সঞ্চালনায় ছিলেন যথাক্রমে ফারহান ইশরাত ও খালিদ মারুফ।

নতুন বই :বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্র থেকে গতকাল নতুন আসা বইয়ের সংখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে মেলা ঘুরে দেখা গেছে, এরই মধ্যে এসেছে নতুন অনেক বই। প্রথম দিনেই তাম্রলিপি থেকে মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘নিয়ান’ ও ‘রাজাকার ইজ্জত আলীর জীবনের একদিন’ এবং অধ্যয়ন থেকে ‘টুনুর আজ কাহিনী’; সব মিলিয়ে তিনটি বই এসেছে। মেলায় নতুন আসা অন্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে- কাজী রোজীর ‘মধ্যিখানে সিঁথিকাটা পুরুষ গো’ (মাওলা ব্রাদার্স), সেলিনা হোসেনের ‘বিষণ্ণ শহরের দহন’, পবিত্র সরকারের ‘গল্পে বাংলা উচ্চারণ’ ও আসিফের ‘মানব প্রজাতির অনিশ্চিত গন্তব্য’ (আলোঘর), এ কে এম শাহনাওয়াজের ‘কিশোরদের বঙ্গবন্ধু’ (অবসর), হরিশংকর জলদাসের ‘সুখলতার ঘর নেই’ (প্রথমা), পিয়াস মজিদের ‘কিছু হুমায়ূন’ (অন্বেষা)।

আজকের আয়োজন :আজ বিকেলে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘বিজয় : ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক আলোচনা। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন প্রাবন্ধিক-গবেষক আবুল মোমেন। আলোচনায় অংশ নেবেন লেখক-সাংবাদিক হারুন হাবীব, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এমরান কবির চৌধুরী এবং গবেষক মোফাকখারুল ইকবাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here