ইজতেমার মাঠে হামলাকারীদের বিচারের দাবীতে আজ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান

বরাবর,
মাননীয়প্রধানমন্ত্রী
গণপ্রজাতন্ত্রীবাংলাদেশ সরকার
মাধ্যম: জেলাপ্রশাসক ,চট্টগ্রাম ।বিষয়: গত ০১/১২/২০১৮ তারিখে ইজতেমার মাঠে নিরীহ আলেম-উলামা-তলাবা ও তাবলীগের সাথীদের উপর পৈশাচিক সন্ত্রাসী হামলা কারীদের ২৪ ঘন্টারমধ্যে শাস্তির দাবী ও দাওয়াতে তাবলীগের চট্টগ্রাম জেলা লাভলেইন মারকাজ শুরায়ী নেজাম কাকরাইল মসজিদের তত্বাবধানে জমহুর হাক্কানী ওলামায়ে কেরামের দ্বারা পরিচালনা প্রসঙ্গ।

মহোদয়,
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ
যথাযথ সম্মানপূর্বক উপরোক্ত বিষয়ে আরজ এ যে, আপনি অবগত আছেন যে, আল্লাহ্ পাকের অশেষ রহমতে যুগযুগধদ ধরে দাওয়াতে তাবলীগের কাজ বিশ্ব ব্যাপী শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ওলামায়ে কেরামের নেতৃত্বে চলে আসছে।
বড়ই পরিতাপের বিষয় বিগত কয়েক বছর হতে দিল্লীর বিতর্কিত মাওলানা সাদের স্বেচ্ছাচারিতা, কোরআন হাদিসের মনগড়া অপব্যাখ্যা, নবীদের সমালোচনা, সাহাবাদের শানে অশালীন মন্তব্য, স্ব-ঘোষিত আমির দাবী নিয়ে সমস্যা ধীরেধীরে প্রকট আকার ধারণ করে। বিশ্বের হাক্কানী জমহুর ওলামা বিশেষ করে ভারতের প্রখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা, বাংলাদেশের হাজার হাজার মুফতি, মুহাদ্দিস, ওলামায়ে কেরাম মাওলানা সাদের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেন।

দেশের বিভিন্ন জেলায় দিল্লীর মাওলানা সাদের অনুসারীরা ওলামায়ে কেরাম ও তবলীগের সাথীদের উপর দুর্ব্যবহার, অপমান-অপদস্ত, নির্যাতন করে আসছে।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম মারকাজের শুরা আব্দুল হালিম সওদাগর, আবুল কালাম আজাদ গংতাদের লোকজন নিয়ে মারকাজে অনেক দিন হতে চরম বিশৃংখলা করতেছে, ওলামায়ে কেরামদের সাথে দূর্ব্যবহার করছে, কুত্তার বাচ্চা, ইহুদি খৃষ্ঠানদের দালাল ইত্যাদি বলে অহরহ গালিগালাজ, হুমকি দিচ্ছে। এমনকি শারীরিক ভাবে অপদস্ত করছে যা কোন দিন আমরা চিন্তাও করি নাই। তাদের এহেন গর্হিত, বিশৃংখলা ধর্ম বিরোধী কাজে ওলামায়ে কেরাম ও দাওয়াতে মেহনতকারী সাথীগণ ধৈর্য ধারণ করছে, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছে, তারা বারবার করাতে মৌখিক ও লিখিত ভাবে পুলিশ প্রশাসন কে অভিযোগও করা হয়েছে।

সরকারের সাথে পরামর্শ করে আগামী টংগী ইজতেমা ১৮-২০ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে ইজতেমা ১ম পর্ব অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইজতেমাকে কামীয়াব করার জন্য দীর্ঘ দিন ধরে মাঠে প্রস্তুতি মূলক কাজ করতে হয়। এ কাজ শুরু করতে বিভিন্ন কারণে বিলম্ব হয়।

ফলে তবলীগেররসাথী ও ঢাকার মাদ্রাসার ছাত্ররা ৩ দিনের জামাত নিয়ে মাঠে কাজরত অবস্থায় গত শনিবার ১১/১২/২০১৮ তারিখ দিল্লীর বিতর্কিত মাও. সাদপন্থী বাংলাদেশের ওয়াসিফুল ইসলাম ও শাহাবুদ্দিন নাসিমগং এর নির্দেশে তাদের অনুসারিরা নিরহনিরস্ত্র তবলীগের সাথী ও মাদ্রাসা ছাত্র ওলামায়ে কেরামের উপর লাঠি-সোঠা, ধারাল অস্ত্র, ইট-পাটকেল নিয়ে গেট ভেঙ্গে ঝাপিয়েপড়ে। অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, প্রশাসনের উপস্থিতি নিরব ভূমিকায় গেট ভেঙ্গে মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বরতা ও নিষ্ঠুর ভাবে নির্যাতন করে। এমনকি ইজতেমার মাঠে অবস্থিত টঙ্গী ময়দান মাদ্রাসার হেফজখানায় কোরআনপড়া অবস্থায় শিশুদেরকে ও লাথি মেরে, আছাড় মেরেনদীতে ফেলে দেয়। হামলা কারীরা ভিতর প্রবেশ করে যাকে যেখানেই সামনে পেয়েছে তার উপরই তারা হিংস্রতা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে। শতশত ছাত্র ও সাথীকে রক্তাক্ত করেছে। এ হামলায় কয়েক জননিহত হয়েছে ও মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে যারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে

প্রেক্ষিতে লক্ষ আলেম, ছাত্র, তবলীগের সাথী, সর্বস্তরেরমুসলমানদের দাবী:

(১) এ হামলার নির্দেশদাতা ওয়াসিফুল ইসলাম ও শাহাবুদ্দিননাসিমগংসহহামলার সাথে জড়িতসকলকে ২৪ ঘন্টার আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রদান করতে হবে।

(২) টংগীর ময়দান এতদিন যেভাবে শুরা ভিত্তিক পরিচালিত তবলীগের সাথী ও ওলামায়ে কেরাদের অধীনে ছিল তাঁদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। অতি সত্তর কাকরাইলের সকল কার্যকলাপ হতে ওয়াসিফুল ইসলাম ও শাহাবুদ্দিন নাসিমগংকে বহিস্কার করতে হবে।
(৩) সারা দেশে ওলামায়ে কেরাম ও শুরাভিত্তিক পরিচালিত তাবলীগের সাথীদের উপরহামলামামলা বন্ধ করে পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।(৪) টঙ্গীর আগামী ইজতেমা যথা সময়ে পূর্ব ঘোষিত (১৮,১৯,২০ জানুয়ারী ২০১৯ ) তারিখে অনুষ্ঠানের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

(৫) টঙ্গীতে গিয়া হামলার সাথে জড়িত চট্টগ্রাম থেকে ৪০০/৫০০ জনকে নিয়ে নেতৃত্বদান কারী আব্দুল হালিমগংদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে আইনেরআওতায়এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির প্রদান করতে হবে।

(৬) চট্টগ্রাম মারকাজ মসজিদের মতোয়াল্লি প্রশাসনের নিকট প্রেরিত পত্র মোতাবেক চট্টগ্রাম লাভলেইন মারকাজ থেকে অতিসত্তর আব্দুল হহালীমগংদের ফেতনা-ফেসাদ, বিশৃংখলা থেকে রক্ষা কল্পে শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে দ্বীন-ইসলামের স্বার্থে আব্দুল হালীমগংদের থেকে রাহু মুক্ত করে চট্টগ্রাম মারকাজকে জমহুর হক্কানী ওলামায়ে কেরামের নেতৃত্বে অর্পন করতে হবে।