আমরা যাদের উওরসুরী – হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী (রহঃ)পরিচয়।

0
164

জন্ম ও বংশ ঃ হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী (রহঃ) ভারতের মুজাফ্ফর নগর জেলার অর্ন্তগত থানাভবন নামক গ্রামে ১২৩১ হিজরীতে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি থানাভবনের ফারুকী মাশায়েখদের অর্ন্তভূক্ত ছিলেন। নানুতার শেখ সিদ্দীক্কী বংশে তাঁর বোনের বিবাহ হয়েছিল। তাছাড়া হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াকুব সাহেব (রহঃ) ও হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ কাসেম নানুতুবী (রহঃ) ও তাঁর আত্মীয় ছিলেন।

শৈশব ও প্রাথমিক শিক্ষা ঃ হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী (রহঃ) শৈশবকাল থেকেই প্রখর স্মৃতি শক্তির অধিকারী ছিলেন। ফলে অতি অল্পদিনের মধ্যেই তিনি পবিত্র কোরআন মাজীদ সম্পূর্ণ হিফজ করেন। তারপর তিনি ফারসী ও আরবী শিক্ষার প্রতি গভীর মনোযোগ দেন।তাঁর ছোটবেলার শিক্ষকদের মধ্যে জনাব মুন্সী আব্দুর রজ্জাক সাহেব (রহঃ) ও হযরত মাওলানা মুফতী ইলাহী বখ্শ ঝানঝানবী (রহঃ) এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

এলমের বিশালতা ঃ হযরত হাজী সাহেব (রহঃ) জীবনে বহু পুস্তক রচনা করেন। তাঁর লেখা, সার গর্ভ আলোচনা, বিভিন্ন মাসআলার সঠিক সমাধান প্রভৃতি থেকে একথা সুস্পষ্টরূপে বুঝা যায় যে, তিনি ছিলেন এলমে নববীর প্রকৃত ধারক ও বাহক। হযরত মাওলানা কাসেম নানুতুবী (রহঃ) বলেন, কেউ হাজী সাহেবের প্রকৃত তাকওয়ার কারণে, কেউ বা তার কেরামতির কারণে আকৃষ্ট। হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহঃ) বলেন, লোকেরা আমাকে বলে, হাজী সাহেবের কাছে এমন কি আছে যা অন্যন্য আলেমগণের কাছে নেই। যার কারণে তারা তাঁর দরবারে অহরহ গমন করে থাকে। উত্তরে আমি বলি, আমাদের কাছে আছে যাহেরী এলম আর হাজী সাহেবের আছে বতেনী এলম।

আধ্যাত্মিক সাধনা ঃ ছোট বেলা থেকেই হযরত হাজী সাহেবের তাসাউফের দিকে প্রবল ঝোঁক ছিল। তিনি সর্ব প্রথম তরীকায়ে নকশবন্দীয়ার পীর হযরত শাহ নাসির উদ্দীন দেহলবী (রহঃ) এর হাতে বায়’আত হন। শাহ নাসির উদ্দীন সাহেবের মৃত্যুর পর তিনি হযরত মিয়াজী নুর মুহাম্মাদ ঝানঝানবী (রহঃ) এর নিকট বায়’আত গ্রহণ করেন। এবং দীর্ঘদিন পর্যন্ত তার সোহবতে থাকেন। পরিশেষে তিনি মিয়াজী সাহেবের নিকট থেকে খেলাফত প্রাপ্ত হন।

বিবাহ ঃ হযরত মাওলানা হাজী সাহেব (রহঃ) তিনটি বিবাহ করেন। তাঁর প্রথম বিবির নাম ছিল বিবি খাদিজা, দ্বিতীয় বিবির নাম ছিল খায়রুন নেসা এবং তৃতীয় বিবির নাম ছিল আমাতুল্লাহ। প্রথম স্ত্রী হযরতের জীবদ্দশায় ইন্তেকাল করেন। আর বাকী দুই স্ত্রী হযরতের ইন্তেকালের পরেও জীবিত ছিলেন।
জীবিকা অর্জন ঃ হযরত মাওলানা হাজী সাহেব (রহঃ) জমিদার ছিলেন বটে কিন্তু প্রথমবার হজ্জ্ব করার পর তিনি তাঁর সমস্ত সম্পত্তি ছোট ভাইকে দান করে দেন এবং জাগতিক সকল চিন্তা-ভাবনা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে যানএকটি ছোট কামরায় মহান প্রভূর ইবাদতে গভীর ভাবে নিমগ্ন হন। তিনি নিজের ও সমস্ত মেহমানের ভার একমাত্র আল্লাহ তায়ালার উপর ছেড়ে দেন। তখন তাঁর মেহমানের ভার তিনি নিজেই বহন করতেন। অবশেষে যখন মেহমানদের আসা খুব বেড়ে গেল, তাঁর বড় ভাইয়ের স্ত্রী পীড়াপীড়ি করে এ অনুমতি প্রার্থনা করলেন যে, অনুগ্রহ করে আপনার ও আপনার সকল মেহমানদের খেদমত করার সুযোগ করে দিন। হযরত হাজী সাহেব তাঁর আবেদন মঞ্জুর করলেন। মোটকথা তিনি আল্লাহ তায়ালার উপর পূর্ণ ভরসা রাখতেন। ফলে আল্লাহ পাক তার সকল প্রয়োজনের ক্ষেত্রে গায়েবী ভাবে সাহায্য করতেন।

জিহাদে অংশ গ্রহণ ঃ হযরত শায়খুল গড়াব মাওলানা মাদানী (রহঃ) নকশে হায়াত নামক গ্রন্থে লিখেন, ভারতের বিভিন্ন স্থানে যখন ১৮৫৭ সালের বিপ্লব ছড়িয়ে পড়ল তখন উলামায়ে কেরামের মধ্যে উদ্দীপনার সৃষ্টি হল। পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা ভাবলেন যে, এ বিপ্লবে অংশ গ্রহণ করা তাদের উপর ফরজ। অগ্রনায়ক ছিলেন হাফেজ যামেন সাহেব (রহঃ)। হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী (রহঃ) ছিলেন উক্ত আন্দোলনে হাফেজ সাহেবের পরম সাথী। আন্দোলনের এক পর্যায়ে জিহাদের ঘোষণা দেওয়া হল। উক্ত জিহাদে হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী (রহঃ) কে ইমাম, হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ কাসেম নানুতুবী (রহঃ) কে সেনাপতি ও মাওলানা রশীদ আহমাদ (রহঃ) কে কাযী নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ জিহাদে তাঁরা বিভিন্ন ভাবে ইংরেজদের হাতে পরাজিত হবার পর হযরত হাজী সাহেব (রহঃ) পবিত্র মক্কা শরীফ হিজরত করার ইচ্ছা করেন। মাওলানা কসেম নানুতুবী (রহঃ) আত্মগোপন করলেন এবং মাওলানা গাঙ্গুহী (রহঃ) রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে গ্রেফতার হন।

মক্কায় হিজরত ঃ যেহেতু পূর্ব থেকেই হাজী সাহেব (রহঃ) হিজরতের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়েছিলেন, তাই থানা ভবন ধ্বংসের পর তিনি হিজরতের উদ্দেশ্যে যাত্রা ,শুরু করে দিলেন। পথিমধ্যে প্রথম তিনদিন গঙ্গুহতে তাঁর একান্ত প্রিয় খলিফা হযরত মাওলানা রশীদ আহমাদ গাঙ্গুহী (রহঃ) এর কাছে অবস্থান করেন। তারপর সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে আমবালা, তাগরী, পাঞ্জালাসাহ অবস্থান করতে করতে সিন্ধুর পথে জাহাজে মক্কা শরীফ পৌঁছান। পুলিশ তাঁর পেছনে ধাওয়া করে, কিন্তু তিনি আল্লাহর মেহেরবানীতে মক্কায় পৌছে যান।

কারামাত ঃ তিনি পাঞ্জালাসাহ নামক স্থানে পৌঁছে রাও আবদুল্লাহ খান নামক এক সর্দারের পরিত্যক্ত এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘোড়া শালায় আশ্রয় নেন। একদিন ঘোড়াশালায় অন্ধকার কামরায় ওজু করে চাশতের নামাজ আদায়ের নিয়তে মুছাল্লা বিছিয়ে উপস্থিত প্রিয় ভক্তদেরকে বলেন, আপনারা আপনাদের স্ব স্ব স্থালে নফল আদায় করে নিন।ধনাঢ্য, জমিদার ও সরকারীভাবে সম্মানের অধিকারী রাও আবদুল্লাহ খান- মাওলানা হাজী সাহেবের প্রিয় খাদেম ও প্রসিদ্ধ মুরিদ ছিলেন। তিনি জনতেন হাজী সাহেবের উপর কি ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগ রয়েছে তা সত্ত্বেও নিজের ঘরে তাঁকে স্থান নিঃসন্দেহে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। কারণ রাষ্ট্রদ্রোহীতার সহায়তা করা রাষ্ট্রদ্রোহীতারই শামিল। কিন্তু হযরতের সাথে দ্বীনি প্রভাব ও ভালবাসার আকর্ষণ এত প্রগাঢ় ছিল যার সঙ্গে জান ও মালের কোন তুলনা চলে না। আল্লাহর কি অপার মহিমা হাজী সাহেব (রহঃ) তাহরিমা বাঁধা অবস্থায় রাও আবদুল্লাহ খান হাজী সাহেবকে ছেড়ে ঘরের বাইরে এসে ঘোড়ার আস্তাবলের দরজার নিকট পৌঁছুতেই সম্মুখ থেকে পুলিশ অফিসারকে আসতে দেখে হতভম্ব হয়ে গেলেন। এবং মনে মনে বললেন , খোদাই জানে কোন দুর্ভাগা খবর দাতা যথা সময়ে আত্মগোপনকারী হযরত হাজী সাহেব (রহঃ) এর অবস্থানের কামরার সংবাদ জানিয়ে দিয়েছে। যা হোক পুলিশ অফিসার আস্তাবলের নিকট পৌঁছে হেসে রাও সাহেবের সঙ্গে একথা সেকথা বলতে শুরু করে দেয়। এবং তাদের অসময়ে আগমনের বিষয়টি লকাতে থাকে। দূরদর্শী রাও সাহেব বুঝে ফেললেন, এ ফুল অন্যভাবে ফুটেছে। অর্থাৎ অফিসারের উদ্দেশ্য অন্যরকম। কিন্তু এখানে থাকাও সম্ভব নয়। আর পালিয়ে যাওয়া ও সম্ভব নয়। স্বীয় জীবন ও সম্মান জলাঞ্জলী যাক, ধন-সম্পদ, জমিদারী বিলীন হয়ে যাক, হাত কড়া লাগিয়ে জেলখানায় নিয়ে যাক অথবা ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলানো হোক এ ব্যাপারে কোন পরোয়া ছিল না। তবে চিন্তা ও আফসোস এজন্য যে গোলামের বাড়ী থেকে মালিক গ্রেফতার হচ্ছে। রাও আবদুল্লাহ খানের সামনে তাঁর প্রাণের প্রিয় শায়খের পায়ে শিকল পরাবে। তথাপি অফিসারের সঙ্গে রাও সাহেব এক বিশেষ ভাবমূর্তি, সাহসিকতা অক্ষুণœ রেখে স্বাভাবিকতা বজায় রাখলেন এবং অঙ্গ প্রত্যঙ্গেও কোন প্রকার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ না করে অফিসারের সব কথার জবাব হাসি মুখে দিলেন এবং মুসাফাহার জন্য হাত বাড়ালেন।
পুলিশ অফিসারের ঘোড়া থেকে নেমে বলল, আমি আপনাদের আস্তাবলের ঘোড়ার খুব নাম ডাক শুনেছি। একারণে কোন সংবাদ না দিয়েই হঠাৎ এসে পড়লাম। এ কথা বলতে বলতে । আস্তাবলের নিকটবর্তী হতে লাগল। অফিসার বার বার রাও সাহেবের মুখের দিকে তাকাচ্ছে। তাকে এভাবে শান্ত দেখে,খবরদাতাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করে রাগান্বিত হচ্ছিল। আর নিজের ব্যর্থতা ও সফরের কষ্টের জন্য অনুতাপ করছিল। যা হোক ঘোড়া দেখা শেষে করে অফিসার ঐ ঘরের দিকে অগ্রসর হল যে ঘরে হাজী সাহেব লুকিয়ে আছে বলে সংবাদ দাতা জানিয়েছে। ওখানে পৌঁছে অফিসার বলল, এ ঘরে কি ঘাস রাখা হয়? ঘরের দরজা খুলে দিন। এ মুহূর্তে রাও সাহেবের মনের যে অবস্থা হয়েছিল, তা একমাত্র তিনিই অনুভব করেছিলেন। কারণ তাকদীরের ফয়সালা শেষ মুহূর্তে এসে উপস্থিত, ভয়ে প্রাণ ওষ্ঠাগত। তাই আল্লাহর ফয়সালার উপর রাজী থেকে মনিবের গ্রেফতারের অপেক্ষা করছিলেন।
আল্লাহ তায়ালার কি শান, ঘরের দরজা খোলা হলে দেখা গেল খাটের উপর নামাজের বিছান বিছানো আছে, ওজুর লোটাও রাখা আছে এবং নীচে ওজুর পানি পড়ে আছে, কিন্তু হাজী সাহেব নেই। অফিসার হয়রান ও পেরেসান এবং রাও সাহেব হাজী সাহেবের কারামতে উৎফুল্ল ও আনন্দিত। কি আজব দৃশ্য! অফিসার কাউকে কিছু বলতেও পারছে না,তল্লাসী ও চালাতে পারছে না। কখনো এদিক তাকাচ্ছে কখনো ওদিক তাকাচ্ছে, আর খবরদাতার খবর মিথ্যা মনে করছে। এক পর্যায়ে সে খান সাহেবকে প্রশ্ন করল, খান সাহেব এখানে লোটা কেন এবং পানিই বা পড়ে আছে কেন? রাও সাহেব জবাবে বললেন, এখানে মুসলমানরা নামাজ আদায় করে এবং ওজু করার সময় হাত মুখ ধোয়। আপনি এখানে আগমনের দশ মিনিট পূর্বেই এগুলি বের করা হয়েছে। আফিসার হেসে বলল, আপনাদের নামাজের স্থান আস্তাবল না মসজিদ? রও সাহেব তৎখনাৎ জবাবে বললেন, মসজিদ তো ফরজ নামাজের জন্য, আর নফল নামাজ এমন নির্জন গোপনীয় স্থানেই পড়া হয় যাতে কেউ টের না পায়। অফিসার জবাব শুনে নিশ্চুপ হয়ে দরজা বন্ধ করে চলে গেলেন।

মক্কায় অবস্থান ঃ তিনি হিজরত করে মক্কা শরীফ পৌঁছে রেবাতে ইসমাঈল নামক স্থানে অবস্থান করলেন। তারপর হায়দ্রাবাদেও নবাবের পক্ষ থেকে তাঁর উকিলের নামে একটা ফরমান পৌঁছুল। তাতে লেখা ছিল যে হযরতকে দুটি ঘর দিয়ে দাও। সেমতে জনৈক ব্যক্তি জারাতুশশাব নামক স্থানের একটি বাড়ি খরিদ করে হযরতকে অর্পণ করেন। সে বাড়ি সম্পর্কে হযরত হাজী সাহেব বলেন, এ বাড়িতে শায়খ আকবর থাকতেন।
আরবের আবহাওয়া ভারতের আবহাওয়া থেকে ভিন্ন হওয়ায় এবং বাহ্যিকভাবে জীবিকা উপার্জনের কোন উপায় না থাকায় প্রথম প্রথম হযরতের খুবই কষ্ট হচ্ছিল। তাই তিনি বলেন, প্রথম প্রথম আমি যখন মক্কায় এলাম তখন আমার অভাব অনটনের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌছে ছিল যে, নয় দিন পর্যন্ত শুধুমাত্র জমজমের পানি ব্যতীত কিছুই মেলেনি। তিন-চার দিন ক্ষুধার্ত থাকার পর কোন কোন বন্ধুর কাছে কর্জ চাইলে তাদের সামর্থ থাকা সত্ত্বেও কর্জ দিতে অস্বীকার করল। তখন আমি বুঝে নিলাম এবং সংকল্প করলাম যে, এখন থেকে কারো কাছে কিছুই চাইব না। দুর্বলতা এমন চরমে পৌছে ছিল যে, উঠা-বসা কষ্টকর হয়ে গেল। অবশেষে নবম দিনে স্বপ্ন যোগে হযরত খাজা আজমীর (রহঃ) আগমন করে আমাকে বলতে লাগলেন হে ইমদাদুল্লাহ তোমাকে এতদিন ভীষণ কষ্টের স্বীকার হতে হয়েছে, আজ তোমার হাতে লক্ষ টাকা ব্যয় করার ব্যবস্থা করতে চাই। এটা বড়ই শক্ত আমানত বিধায় আমি এ প্রস্তাবে রাজী হলাম না। তিনি বললেন, ঠিক আছে তোমার ইচ্ছা, তবে এখন থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ তুমি পাবে। তখন নির্বিঘেœ আনুসঙ্গিক ব্যয় নির্বাহ হতে লাগল এবং কমপক্ষে একশত টাকা তিনি প্রতি মাসে পেতে লাগলেন। হযরত মাদানী এ ঘটনাটি এভাবে লিখেন যে, রাত্রে আমি স্বপ্নে দেখলাম মঈনুদ্দীন আজমিরী (রহঃ) বলছেন আমি তোমাকে আমার বাবুর্চি খানার খাদেম এবং পরিচালক নির্বাচন করেছি। তারপর সকাল হতে না হতেই এক ব্যক্তি দরজায় খট খট আওয়াজ করলে আমি দরজা খললেই তিনি একশত দিনার দিয়ে গেলেন। মোট কথা হযরত হাজী সাহেবের মক্কার জীবন অতি দুঃখ কষ্টে কাটে তারপর আল্লাহ তায়ালা স্বচ্ছলতা দান করেন।

ইন্তেকাল ঃ মৃত্যুকালে হযরতের বয়স ছিল ৮৪ বছর ৩ মাস ২০ দিন। জন্ম থেকেই তিনি হালকা পাতলা ও দুর্বল দেহের অধিকারি ছিলেন। তদুপরি আধ্যাতিক সাধনা, মুজাহাদা, ঘুম ও খাদ্য স্বল্পতার কারণে তিনি আরো হালকা পাতলা হয়ে যান। শেষ বয়সে লাগাতার পাতলা পায়খানা শুরু হয় এবং ১৩ই জুমাদাল উখরা ১৩১৫ হিজরী সোমবার সুবহে সাদিকের সময় সকলকে শোক সাগরে ভাসিয়ে তিনি তাঁর প্রকৃত বন্ধু আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্যে পৌঁছেন।

তাঁর কয়েকজন বিশিষ্ট খলিফা
১ হযরত মাওলানা রশীদ আহমাদ (রহঃ)
২ হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ কাসেম নানুতুবী (রহঃ)
৩ হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াকুব নানুতুবী (রহঃ)
৪ হযরত হাজী সায়্যেদ মুহাম্মাদ আবিদ সাহেব দেওবন্দী (রহঃ)
৫ হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আশরাফ আলী থানভী (রহঃ)
৬ হযরত মাওলানা খলিল আহমাদ সাহেব সাহারান পুরী (রহঃ)
৭ হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ হাসান সাহেব দেওবন্দী (রহঃ)
৮ হযরত মাওলানা আব্দুল ওয়াহিদ সাহেব বাঙালী (রহঃ)